


কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি একটি ভুয়া ছবি—যা কখনো বাস্তবে তোলা হয়নি—সেই ছবিকেই হাতিয়ার বানিয়ে মাসের পর মাস ব্ল্যাকমেইল করা হয় এক হোটেল ব্যবসায়ীকে। চাঁদার চাপে অতিষ্ঠ হয়ে শেষ পর্যন্ত রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নিজের পরিবারসহ গায়ে আগুন দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন তিনি। শেষ মুহূর্তে প্রতিবেশীদের তৎপরতায় রক্ষা পায় পুরো পরিবার, আর ঘটনার মূলহোতাকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
রাজধানীর আগারগাঁও এলাকায় ঘটে যাওয়া এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় ভুক্তভোগী আলমগীর নামের এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্রের ব্ল্যাকমেইলের শিকার হন। অভিযোগ অনুযায়ী, এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে একটি রাজনৈতিক পোস্টারের সঙ্গে তার ছবি জুড়ে দেওয়া হয়। এরপর সেই ভুয়া ছবিকে কেন্দ্র করে শুরু হয় ভয়ভীতি দেখানো এবং চাঁদা দাবি।
প্রথমদিকে ছোট অঙ্কের টাকা দাবি করা হলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে চাপ বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে কয়েক কিস্তিতে আলমগীরের কাছ থেকে প্রায় দেড় লাখ টাকা আদায় করে চক্রটি। শুধু অর্থ আদায়েই থেমে থাকেনি তারা—প্রায়ই তার হোটেলে গিয়ে খাওয়া-দাওয়া করে টাকা না দিয়েই চলে যেত।
আলমগীর জানান, তিনি কোনো সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নন। তবে স্থানীয় কিছু ব্যক্তির সঙ্গে পরিচিতির সুযোগ নিয়ে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রভাব তৈরি করে এই চক্র। ভুয়া ছবিটি দেখিয়ে তাকে বলা হতো—টাকা না দিলে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হবে। পরিবার-পরিজনের ভবিষ্যতের কথা ভেবে দীর্ঘদিন এই চাপ সহ্য করলেও শেষ পর্যন্ত আর সামলাতে পারেননি তিনি।
সর্বশেষ বড় অঙ্কের টাকা দাবি করা হলে চরম হতাশায় ভুগতে থাকেন আলমগীর। গত ১ এপ্রিল সন্ধ্যায় নিজের ঘরে স্ত্রী, সন্তান ও মাকে নিয়ে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করেন। আশপাশের মানুষের দ্রুত হস্তক্ষেপে বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পায় পরিবারটি।
ঘটনার পর ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালিয়ে চক্রের মূলহোতা জাকির হোসেনকে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালিত হয়।
এ ঘটনায় জড়িত আরও কয়েকজন সহযোগী এখনও পলাতক রয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার করে এ ধরনের প্রতারণা ও ব্ল্যাকমেইল সাম্প্রতিক সময়ে উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। একটি ভুয়া ছবি বা তথ্য ব্যবহার করে মানুষের জীবনকে বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে, যা প্রতিরোধে প্রযুক্তিগত সচেতনতা ও কঠোর আইনি ব্যবস্থা—দুটোই জরুরি হয়ে উঠেছে।
এই ঘটনা শুধু একটি পরিবারের ভয়াবহ অভিজ্ঞতাই নয়, বরং সমাজে নতুন ধরনের অপরাধের ঝুঁকির একটি স্পষ্ট সতর্কবার্তা।