


বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের একজন ইলন মাস্ককে তলব করেছে ফ্রান্সের আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। একই সঙ্গে এক্স-এর সাবেক প্রধান নির্বাহী লিন্ডা ইয়াক্কারিনো-কেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সমন পাঠানো হয়েছে।
শিশু নির্যাতনমূলক কনটেন্ট ছড়ানো, ডিপফেক তৈরি এবং অ্যালগরিদম ব্যবহার করে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগে এক্স-এর বিরুদ্ধে এই তদন্ত চলছে। গত বছরের জানুয়ারিতে প্যারিস প্রসিকিউটরের সাইবার ক্রাইম ইউনিট এ তদন্ত শুরু করে।
তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে এক্স-এর এআই চ্যাটবট গ্রোক। অভিযোগ আছে, এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে হলোকাস্ট অস্বীকারসহ আপত্তিকর তথ্য ছড়ানো এবং যৌন উত্তেজক ডিপফেক ছবি তৈরি করা হয়েছে।
অপতথ্য ও ঘৃণামূলক কনটেন্ট পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা সেন্টার ফর কাউন্টারিং ডিজিটাল হেট দাবি করেছে, স্বল্প সময়ের মধ্যেই গ্রোক বিপুল পরিমাণ আপত্তিকর ছবি তৈরি করেছে, যার একটি অংশ শিশুদের মতো দেখতে।
এছাড়া এক্স-এর অ্যালগরিদম ব্যবহার করে তথ্যপ্রবাহে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও উঠেছে। গত ফেব্রুয়ারিতে প্যারিসে এক্স-এর কার্যালয়ে তল্লাশির পর তদন্ত আরও জোরদার করা হয়।
প্যারিস প্রসিকিউটর অফিস জানিয়েছে, ঘটনার সময় দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি হিসেবে মাস্ক ও ইয়াক্কারিনোকে স্বেচ্ছায় সাক্ষাৎকারের জন্য ডাকা হয়েছে। তবে তারা সশরীরে হাজির হবেন কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়।
এদিকে তদন্ত ঘিরে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। ফরাসি কর্তৃপক্ষের এই পদক্ষেপে সহযোগিতা করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ। তাদের অভিযোগ, ফ্রান্স এই তদন্তের মাধ্যমে মার্কিন ব্যবসা ও বাকস্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ করতে চাইছে।
অন্যদিকে রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্স (আরএসএফ) এক্স প্ল্যাটফর্মে ভুয়া তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে পৃথক মামলা করেছে। সংস্থাটির দাবি, প্ল্যাটফর্মটি ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, এক্স এখন ফরাসি আইনি চাপ এবং আন্তর্জাতিক বিতর্কের মুখে পড়েছে।