


ইউক্রেনে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম প্রাণঘাতী বিমান হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের সমন্বিত এই হামলায় রাজধানী কিয়েভসহ বিভিন্ন শহরে অন্তত ১৮ জন নিহত এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন। কয়েক মাসের মধ্যে এটিই সবচেয়ে ভয়াবহ হামলা বলে জানিয়েছে ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) ভোররাতে কিয়েভ শহরে সাইরেন বেজে ওঠার পরপরই একের পর এক বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে পুরো নগরী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, বিভিন্ন স্থানে আগুন জ্বলছে এবং ঘন ধোঁয়ায় ঢেকে গেছে আকাশ। একটি ড্রোন সরাসরি একটি বহুতল আবাসিক ভবনে আঘাত হানার ঘটনাও নজরে আসে।
কর্তৃপক্ষ জানায়, দক্ষিণাঞ্চলের বন্দরনগরী ওডেসা-তে ৯ জন, মধ্যাঞ্চলের দ্নিপ্রো শহরে ৫ জন এবং কিয়েভে ৪ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে। আহতদের সংখ্যা কয়েক ডজন ছাড়িয়েছে, যাদের মধ্যে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো জানান, হামলায় ১২ বছর বয়সী এক কিশোর নিহত হয়েছে এবং অন্তত ৪৫ জন আহত হয়েছেন। শহরের পোডিল এলাকায় একটি ১৬ তলা ভবন ধসে পড়লে ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয় এক নারী ও একটি শিশুকে।
এদিকে ইউক্রেনের পাল্টা হামলায় রাশিয়ার ক্রাসনোদার অঞ্চল-এ ড্রোন আঘাতে ২ জন নিহত হয়েছে, যাদের মধ্যে এক কিশোরীও রয়েছে। ফলে দুই পক্ষের সংঘাত আরও তীব্র হয়ে উঠেছে।
ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় রাশিয়া মোট ৬৫৯টি ড্রোন এবং ৪৪টি ক্রুজ ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এর মধ্যে অধিকাংশ প্রতিহত করা সম্ভব হলেও অন্তত ২৬টি স্থানে সরাসরি আঘাত হেনেছে, যা ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কারণ হয়েছে।
এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তিনি বলেন, রাশিয়া যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার পথেই এগোচ্ছে এবং ইউক্রেনকে একইসঙ্গে প্রতিরোধ জোরদার ও শান্তির পথ খুঁজতে হবে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা এই হামলাকে ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে রাশিয়ার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মহলের আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা ও চাপ বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে চলমান এই যুদ্ধে একাধিকবার শান্তি আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা এখনো কার্যকর হয়নি। সাম্প্রতিক এই ভয়াবহ হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে এবং যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনাও আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
সূত্র: বিবিসি