
প্রতি বছর ২ অক্টোবর বিশ্বজুড়ে পালিত হয় আন্তর্জাতিক অহিংসা দিবস। মহাত্মা গান্ধীর জন্মদিন উপলক্ষে জাতিসংঘ ২০০৭ সালে এই দিনটিকে ঘোষণা করে। দিবসটির মূল উদ্দেশ্য হলো সহিংসতাহীন জীবনধারার গুরুত্ব তুলে ধরা এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের বার্তা বিশ্ববাসীর কাছে পৌঁছে দেওয়া।
অহিংসা শুধু ব্যক্তিগত আচরণেই সীমাবদ্ধ নয়, এটি রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও সমানভাবে জরুরি। আধুনিক পৃথিবীতে যুদ্ধ, সন্ত্রাস, দমন-নিপীড়ন ও বৈষম্য মানুষকে বিভক্ত করছে। এমন বাস্তবতায় অহিংসার চর্চা মানবাধিকার রক্ষা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনে অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।
মহাত্মা গান্ধী তাঁর রাজনৈতিক সংগ্রামে অহিংসার পথকে শক্তিশালী অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে তিনি দেখিয়ে দিয়েছিলেন, সহিংসতার জবাব সহিংসতা নয়; বরং ধৈর্য, সত্য এবং শান্তিপূর্ণ প্রতিরোধই পারে দমনকে পরাজিত করতে। তাঁর সেই শিক্ষা আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।
জাতিসংঘ মনে করে, অহিংসা শুধু সংঘাত এড়ানোর উপায় নয়, বরং এটি টেকসই উন্নয়ন, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তি। আন্তর্জাতিক সংঘাত, জলবায়ু সংকট কিংবা সামাজিক বৈষম্য—সব ক্ষেত্রেই অহিংসার দর্শন বিশ্বকে একটি মানবিক সমাধানের দিকে নিয়ে যেতে পারে।
আন্তর্জাতিক অহিংসা দিবস তাই কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি প্রতিটি মানুষের জন্য আত্মসমালোচনার দিন। ব্যক্তি থেকে রাষ্ট্র—সবার জীবনে সহমর্মিতা, শান্তি ও অহিংসার চর্চাই পারে সহিংসতামুক্ত এক সুন্দর পৃথিবী গড়ে তুলতে।