Date: April 19, 2026

দৈনিক দেশেরপত্র

collapse
...
Home / জাতীয় / আজ জাতীয় শহীদ সেনা দিবস: স্মরণ পিলখানার শহীদদের - দৈনিক দেশেরপত্র - মানবতার কল্যাণে সত্যের প্রকাশ

আজ জাতীয় শহীদ সেনা দিবস: স্মরণ পিলখানার শহীদদের

February 25, 2026 11:24:45 AM   দেশেরপত্র ডেস্ক
আজ জাতীয় শহীদ সেনা দিবস: স্মরণ পিলখানার শহীদদের

২০০৯ সালের এই দিনে রাজধানীর পিলখানায় তৎকালীন সীমান্তরক্ষী বাহিনী বাংলাদেশ রাইফেলস (বিডিআর), বর্তমানে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর সদর দপ্তরে সংঘটিত ভয়াবহ বিদ্রোহ ও সেনা হত্যাযজ্ঞে প্রাণ হারান ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তা। নিহতদের মধ্যে ছিলেন বিডিআরের তৎকালীন মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদ। এ নৃশংস ঘটনায় তার স্ত্রীসহ কয়েকজন বেসামরিক নাগরিকও নিহত হন। হত্যাযজ্ঞ শুধু একদিনেই সীমাবদ্ধ ছিল না; পরের দিনও এ বর্বরতা অব্যাহত থাকে।

এই নির্মম ও হৃদয়বিদারক ঘটনার মাধ্যমে বাংলাদেশের ইতিহাসে রচিত হয় এক কলঙ্কিত অধ্যায়। দীর্ঘ ১৭ বছর পেরিয়ে গেলেও এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে থাকা সব পরিকল্পনাকারী ও কুশীলব আজও পুরোপুরি বিচারের আওতায় আসেননি—এ নিয়ে দেশবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও বেদনা এখনো গভীরভাবে বিরাজমান।

দিবসটি উপলক্ষে আজ সকালে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী রাজধানীর বনানী সামরিক কবরস্থান-এ শহীদ সেনাদের কবরে রাষ্ট্রীয়ভাবে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। উল্লেখ্য, গত বছর থেকে রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘জাতীয় শহীদ সেনা দিবস’ হিসেবে দিনটি পালন করা শুরু হয়েছে।

দিবসটি উপলক্ষে বাণী দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় সংঘটিত ভয়াবহ সেনা হত্যাযজ্ঞের নেপথ্যে দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ববিরোধী তৎপরতা বিদ্যমান ছিল। নাগরিক হিসেবে এই বাস্তবতা উপলব্ধি করা সবার জন্য জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেন। বাণীতে তিনি আরও বলেন, ২০০৯ সালের পর দীর্ঘ সময় ধরে দিনটি যথাযথ গুরুত্ব সহকারে পালন করা হয়নি। তবে ২০২৪ সালে দেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হওয়ার পর থেকে ২৫ ফেব্রুয়ারি ‘শহীদ সেনা দিবস’ হিসেবে পালিত হচ্ছে। এ বিশেষ দিনে তিনি শহীদ সেনাদের মাগফেরাত কামনা করেন এবং তাদের শোকাহত পরিবারের প্রতি গভীর সহানুভূতি ও সমবেদনা জানান।

ঘটনার পটভূমিতে ফিরে তাকালে দেখা যায়, ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি সকাল ৯টায় পিলখানা সদর দপ্তরের দরবার হলে বিডিআরের বার্ষিক দরবার শুরু হয়। দরবার চলাকালে তৎকালীন ডিজি মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদের বক্তব্যের একপর্যায়ে বিদ্রোহী কিছু বিডিআর সদস্য আকস্মিক হামলা চালায়। মুহূর্তের মধ্যেই দরবার হল রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। বিদ্রোহীরা আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে একের পর এক সেনা কর্মকর্তাকে নির্মমভাবে হত্যা করে এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে। পুরো পিলখানা এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে ভয়াবহ আতঙ্ক ও বিভীষিকা।

দীর্ঘ নাটকীয় পরিস্থিতির পর ২৬ ফেব্রুয়ারি রাতে বিদ্রোহীরা আত্মসমর্পণ করলে পুলিশ পিলখানার নিয়ন্ত্রণ নেয়। এর পরদিন ২৭ ফেব্রুয়ারি পিলখানার ভেতরে একাধিক গণকবরের সন্ধান মেলে। সেখান থেকেই উদ্ধার করা হয় মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদ, তার স্ত্রীসহ নিহত সেনা কর্মকর্তাদের মরদেহ। এ মর্মান্তিক ঘটনার পর ২৮ ফেব্রুয়ারি লালবাগ থানায় হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দুটি মামলা দায়ের করা হয়, যা পরবর্তীতে নিউমার্কেট থানায় স্থানান্তর করা হয়।

দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ঢাকা মহানগর তৃতীয় বিশেষ আদালতের বিচারক মো. আখতারুজ্জামান ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর রায় ঘোষণা করেন। রায়ে বিডিআরের সাবেক ডিএডি তৌহিদসহ ১৫২ জনকে মৃত্যুদণ্ড, ১৬০ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ২৫৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ২৭৭ জন আসামিকে খালাস দেওয়া হয়।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, পিলখানা হত্যাকাণ্ডের মামলায় গত বছরের ১৯ জানুয়ারি আদালত ২৫০ জন বিডিআর জওয়ানকে জামিন দেন এবং ২৩ জানুয়ারি তাদের মধ্যে ১৭৮ জন মুক্তি পান। এসব ঘটনায় নতুন করে বিতর্ক ও আলোচনার জন্ম দিলেও, শহীদ সেনাদের আত্মত্যাগ আজও জাতির স্মৃতিতে গভীরভাবে অম্লান হয়ে রয়েছে।