


বিদেশের বিভিন্ন চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শনের পর সিনেমাটি এবার বাংলাদেশের দর্শকের জন্য উন্মুক্ত হচ্ছে। এর আগে মেহজাবীন অভিনীত দ্বিতীয় সিনেমা ‘প্রিয় মালতি’ দেশে মুক্তি পেলেও, তার প্রথম সিনেমাটি দেশের পর্দায় দেখানো হয়নি।
মেহজাবীন জানান, আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে ২৬ সেপ্টেম্বর দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে ‘সাবা’। সিনেমার গল্প কেন্দ্র করে সাবা নামের এক কিশোরীর জীবনসংগ্রামের বর্ণনা, যিনি বাবা মারা যাওয়ার পর অসুস্থ মাকে দেখাশোনা করতে বাধ্য হন। নির্মাতা মাকসুদ হোসাইন এই গল্পের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার সংগ্রাম, আবেগ এবং সম্পর্কের জটিলতা পর্দায় ফুটিয়ে তুলেছেন। সিনেমার নাম ভূমিকায় অভিনয় করেছেন মেহজাবীন নিজেই।
সিনেমা প্রসঙ্গে মেহজাবীন বলেন, “দীর্ঘ অপেক্ষার পর প্রথম সিনেমা হিসেবে এটি করার সিদ্ধান্ত যে ভুল ছিল না, তার প্রমাণ এখন পাচ্ছি। এই সিনেমার জন্য আমাকে অনেক প্রস্তুতি নিতে হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে রিহার্সাল করেছি এবং কঠোর পরিশ্রম করতে হয়েছে।” তিনি আরও জানান, “দীর্ঘদিন ধরে বিনোদনের বিভিন্ন মাধ্যমে কাজ করলেও সিনেমা করা হচ্ছিল না। যেখানেই যেতাম, প্রশ্নের মুখোমুখি হতাম—‘কেন তুমি সিনেমা করছো না?’। তবে আমি সিনেমা করার জন্য বিশেষভাবে অপেক্ষা করছিলাম। আমি চাইছিলাম প্রথম সিনেমা যেন আমার মনের মতো হয়, দর্শকও দীর্ঘদিন মনে রাখবেন। গল্প, চরিত্র ও মান—সব কিছু যেন দর্শকের হৃদয় ছুঁয়ে যায়। সেই মতো চরিত্র এবং গল্প পেলাম।”
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ‘সাবা’ সিনেমা কেবল মেহজাবীনের জন্যই নয়, বরং বাংলাদেশের চলচ্চিত্র প্রেমীদের জন্যও একটি বিশেষ নজির। কারণ এটি সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রাম এবং আবেগকে খুব বাস্তবভাবে উপস্থাপন করছে। সিনেমার গল্পের গভীরতা, চরিত্রের নির্মাণ এবং অভিনয় মেলবন্ধন দর্শককে অনুভূতিপূর্ণ অভিজ্ঞতা দেবে।
পরিচালক মাকসুদ হোসাইন জানিয়েছেন, “আমরা চাইছি দর্শক প্রতিটি মুহূর্তে সাবার সংগ্রাম, হতাশা, আশা এবং আবেগ অনুভব করুক। মেহজাবীন চরিত্রের জন্য পুরোপুরি অনুকূল। তার আবেগ, অভিনয় দক্ষতা এবং চরিত্রের সঙ্গে সম্পূর্ণ মিল দর্শকদের হৃদয় ছুঁবে।”
দর্শকদের মধ্যে ইতিমধ্যেই ‘সাবা’ সম্পর্কে আগ্রহ ও উত্তেজনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে দুর্গাপূজার সময় মুক্তি পাওয়ায় সিনেমাটির দর্শকসংখ্যা আরও বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।