


২০২৩ সালের জানুয়ারিতে ইউরোপীয় ফুটবলের দীর্ঘ অধ্যায়ের ইতি টেনে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো সৌদি আরবের ক্লাব আল নাসর–এ যোগ দেন। তার এই সিদ্ধান্ত শুধু ক্যারিয়ার নয়, ব্যক্তিগত জীবনেও এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে। মুসলিম অধ্যুষিত দেশ সৌদি আরব–এ পাড়ি দেওয়ার পর থেকেই রোনালদোর জীবনযাপনে কিছু দৃশ্যমান পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। কখনো তাকে ঐতিহ্যবাহী সৌদি পোশাক ‘থোব’ বা জোব্বা পরতে দেখা গেছে, কখনো আবার স্থানীয় সংস্কৃতি ও আচার–অনুষ্ঠানে অংশ নিতে দেখা গেছে। এতে বোঝা যায়, তিনি শুধু ফুটবল খেলতেই নয়, বরং নতুন পরিবেশকে বোঝার চেষ্টা করতেও আগ্রহী।
সম্প্রতি তার সাবেক সতীর্থ শায়ে শারাহিলি এক সাক্ষাৎকারে রোনালদোকে ঘিরে একটি চমকপ্রদ তথ্য সামনে আনেন। Thamanya Sports–কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শারাহিলি জানান, স্থানীয় সংস্কৃতি ও রমজানের অভিজ্ঞতা বোঝার কৌতূহল থেকেই গত রমজানে টানা দুদিন রোজা রেখেছিলেন রোনালদো। মুসলমান না হয়েও শুধুমাত্র অভিজ্ঞতা অর্জন এবং সতীর্থদের অনুভূতি উপলব্ধি করার উদ্দেশ্যে তিনি এই সিদ্ধান্ত নেন।
শারাহিলির ভাষ্য অনুযায়ী, রমজান মাসে পেশাদার ফুটবল খেলা সহজ বিষয় নয়। আরব খেলোয়াড়রা ছোটবেলা থেকেই রোজার সঙ্গে অভ্যস্ত হওয়ায় তারা শারীরিক ও মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকে। কিন্তু বিদেশি খেলোয়াড়দের জন্য এটি একেবারেই ভিন্ন অভিজ্ঞতা। দিনের বেলা দীর্ঘ সময় না খেয়ে-না পান করে অনুশীলন ও ম্যাচ খেলা, ঘুমের রুটিনে পরিবর্তন, ইফতার ও সেহরির সময়সূচি—সব মিলিয়ে শারীরিক সক্ষমতা ধরে রাখা বেশ চ্যালেঞ্জিং হয়ে ওঠে।
রোনালদোও এই বাস্তবতাই অনুভব করেন। দুদিন রোজা রাখার পর তিনি বুঝতে পারেন, রোজা রেখে পেশাদার ফুটবলারের ব্যস্ত সূচি সামলানো মোটেও সহজ নয়। তবে এই উদ্যোগকে সৌদি ফুটবল অঙ্গনের অনেকেই ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখছেন। তাদের মতে, এটি স্থানীয় সংস্কৃতি ও ধর্মীয় চর্চার প্রতি সম্মান প্রদর্শনের একটি দৃষ্টান্ত।
সব মিলিয়ে, মাঠের ভেতরে যেমন রোনালদো তার পেশাদারিত্ব ও নিবেদন দিয়ে পরিচিত, মাঠের বাইরেও নতুন সংস্কৃতিকে বোঝার এই প্রচেষ্টা তার ব্যক্তিত্বের আরেকটি মানবিক দিককে সামনে এনেছে।