


বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত পিটার হাস-কে প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়ার ঘটনায় আলোচিত চট্টগ্রামের বাঁশখালীর চাম্বল ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মুজিবুল হক চৌধুরী দুর্নীতির মামলায় ৭ বছরের কারাদণ্ড পেয়েছেন। জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এই রায় দেন।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মিজানুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড উভয়ই দেওয়া হয়েছে।
আদালতের রায়ে বলা হয়, মুজিবুল হক চৌধুরী জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণভাবে ৫৬ লাখ ৭১ হাজার টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অর্জন ও ভোগদখলে রেখেছেন। এ অপরাধে তাকে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারায় ৭ বছরের কারাদণ্ড এবং সমপরিমাণ অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরও এক বছরের কারাভোগ করতে হবে।
মামলার নথি অনুযায়ী, তিনি ১৯৯২ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত সৌদি আরবে প্রবাস জীবনযাপন করেন। তবে দেশে অর্থ পাঠানোর বৈধ কোনো প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করতে পারেননি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। তদন্ত শেষে দুর্নীতি দমন কমিশন তার বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করে এবং পরে আদালত অভিযোগ গঠন করে বিচার কার্যক্রম শুরু করে।
মামলার বিচার চলাকালীন তিনি পলাতক ছিলেন বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে। রায় ঘোষণার পর তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৬ নভেম্বর এক জনসভায় মুজিবুল হক চৌধুরী প্রকাশ্যে পিটার হাস-কে হুমকি দেন। ওই বক্তব্য নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর তা “সহিংস” হিসেবে উল্লেখ করে। পরে বিষয়টি নিয়ে দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা হয়।
পরবর্তীতে বিতর্কের জেরে তাকে চাম্বল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদ থেকে বরখাস্ত করা হয়। সাম্প্রতিক এই রায়ের মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে চলমান আইনি প্রক্রিয়ায় নতুন একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি হলো।