Date: May 12, 2026

দৈনিক দেশেরপত্র

collapse
...
Home / রাজনীতি / সীমান্তে কাঁটাতারের নতুন উদ্যোগে উদ্বেগ, কূটনৈতিক পদক্ষেপের আহ্বান নাসিরুদ্দীন পাটোয়ারীর - দৈনিক দেশেরপত্র - মানবতার কল্...

সীমান্তে কাঁটাতারের নতুন উদ্যোগে উদ্বেগ, কূটনৈতিক পদক্ষেপের আহ্বান নাসিরুদ্দীন পাটোয়ারীর

May 12, 2026 03:53:43 PM   অনলাইন ডেস্ক
সীমান্তে কাঁটাতারের নতুন উদ্যোগে উদ্বেগ, কূটনৈতিক পদক্ষেপের আহ্বান নাসিরুদ্দীন পাটোয়ারীর

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে নতুন করে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের উদ্যোগকে ঘিরে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী। তার মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ শুধু দুই দেশের সম্পর্কেই প্রভাব ফেলবে না, বরং পুরো দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতা ও পারস্পরিক আস্থার পরিবেশের জন্যও উদ্বেগজনক হয়ে উঠতে পারে।

সম্প্রতি ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের নবগঠিত বিজেপি সরকার সীমান্ত এলাকায় অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিএসএফকে জমি হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নেয়। এই সিদ্ধান্তের পরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানান নাসিরুদ্দীন পাটোয়ারী।

সোমবার (১১ মে) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে নতুন করে কাঁটাতারের জন্য জমি বরাদ্দ এবং বিভেদের দেয়াল নির্মাণের উদ্যোগ দক্ষিণ এশিয়ার ভবিষ্যৎ নিয়েই নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।

screenshot-1-28.jpg

তিনি উল্লেখ করেন, সীমান্ত শুধু মানচিত্রের একটি রেখা নয়; এটি মানুষের জীবন, মানবাধিকার, পারিবারিক সম্পর্ক, অর্থনৈতিক বাস্তবতা এবং ইতিহাসের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। তার মতে, সীমান্ত এলাকায় নিরস্ত্র বাংলাদেশি নাগরিক হত্যার ঘটনাগুলো দীর্ঘদিন ধরেই মানবিক বিবেককে নাড়া দিচ্ছে।

নাসিরুদ্দীন পাটোয়ারী বলেন, আধুনিক বিশ্বে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ভয়, গুলি বা দেয়াল নির্মাণের মাধ্যমে নয়; বরং পারস্পরিক সম্মান, মানবিক মূল্যবোধ এবং দায়িত্বশীল কূটনীতির ভিত্তিতে পরিচালিত হওয়া উচিত। তিনি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন ও মানবিক নীতিমালার আলোকে প্রতিটি মানুষের জীবন ও মর্যাদা রক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের জনগণের সম্পর্ক শত বছরের ইতিহাস, সংস্কৃতি, ভাষা ও মানবিক বন্ধনের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। তাই এমন কোনো পদক্ষেপ কাম্য নয়, যা দুই দেশের মানুষের মধ্যে অবিশ্বাস, দূরত্ব কিংবা অস্থিতিশীলতার পরিবেশ তৈরি করে।

বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সীমান্ত হত্যা, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং সীমান্তে বিভেদের অবকাঠামো নির্মাণের বিষয়ে কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মহলেও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি।

পোস্টের শেষাংশে তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার প্রয়োজন সংঘাত নয়, সংহতি; দেয়াল নয়, সহযোগিতা; ভয় নয়, আস্থা। মানবাধিকার, ন্যায়ভিত্তিক কূটনীতি এবং পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতেই একটি শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীল দক্ষিণ এশিয়া গড়ে তোলা সম্ভব বলে মন্তব্য করেন তিনি।