


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ তিন দফা দাবিতে টানা ৭২ ঘণ্টা আমরণ অনশন পালন করা তিন শিক্ষার্থী শেষ পর্যন্ত অনশন ভাঙলেন। সরকার বা বিরোধীদল থেকে কোনো নির্দিষ্ট আশ্বাস না মিললেও শেষ মুহূর্তে জুলাই আন্দোলনের শহীদ পরিবারের সদস্যদের অনুরোধ ও আশ্বাসে তারা অনশন প্রত্যাহার করেন। অনশন ভাঙার পর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
শনিবার (১১ এপ্রিল) বিকেল ৩টার দিকে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে উপস্থিত হন জুলাই আন্দোলনের শহীদ পরিবারের সদস্যরা। শহীদ ফারহান ফাইয়াজ, শহীদ সাইদুল ইসলাম, শহীদ জাবের এবং শহীদ সৈকতের পরিবারের সদস্যরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং বৃহত্তর আন্দোলনের আশ্বাস দেন। পরে তারা ডাবের পানি পান করিয়ে অনশন ভাঙান।
অনশন ভাঙার মুহূর্তটি আবেগঘন হয়ে ওঠে। দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার কারণে শিক্ষার্থীদের শারীরিক অবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ে, এবং তাৎক্ষণিকভাবে তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয় চিকিৎসার জন্য।
এই অনশনে অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. সাদিক মুনওয়ার মুনেম, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের সাকিবুর রহমান এবং নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মিডিয়া, কমিউনিকেশন অ্যান্ড জার্নালিজম বিভাগের শিক্ষার্থী শেখ মোস্তাফিজ।
তাদের দাবি ছিল—জুলাই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়ন এবং গণভোট সংক্রান্ত রায়ের কার্যকর প্রয়োগসহ তিন দফা দাবি দ্রুত কার্যকর করা। দাবি আদায়ের লক্ষ্যে তারা রাজু ভাস্কর্যে অবস্থান নিয়ে অনশন শুরু করেন, যা টানা তিন দিন ধরে চলতে থাকে।
এই আন্দোলনের সময় ক্যাম্পাসে ব্যাপক সংহতি গড়ে ওঠে। বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা, সংসদ সদস্য এবং ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধিরা অনশনস্থলে এসে একাত্মতা প্রকাশ করেন।
যেসব রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্ব সংহতি জানান তাদের মধ্যে ছিলেন—
ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আরমান হোসেন, ঢাকা-৪ আসনের সৈয়দ জয়নুল আবেদীন, ঢাকা-৫ আসনের কামাল হোসেন এবং শেরপুর-১ আসনের রাশেদুল ইসলাম রাজু।
এছাড়া বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, জাতীয় নাগরিক পার্টির নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, ডাকসুর ভিপি আবু সাদিক কায়েম, জিএস এস এম ফরহাদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ছাত্র সংগঠনের নেতারাও তাদের দাবির প্রতি সমর্থন জানান।
তিন দিনের অনশন শেষে শহীদ পরিবারের সদস্যদের অনুরোধ ও আশ্বাসকে সম্মান জানিয়ে শিক্ষার্থীরা কর্মসূচি প্রত্যাহার করলেও তাদের দাবি ও আন্দোলন ঘিরে ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক উত্তেজনা ও আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।