


রাজধানীর পল্লবীতে ৬ বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় পুরো এলাকায় শোক ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অভিযুক্ত প্রতিবেশী দম্পতি গ্রেপ্তার হলেও বিচার ব্যবস্থা নিয়ে চরম হতাশা প্রকাশ করেছেন নিহত শিশুটির বাবা আবদুল হান্নান মোল্লা। তার একটি বক্তব্য-আমি বিচার চাই না, আপনারা বিচার করতে পারবেন না-এখন সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার সকালে, যখন শিশু রামিসা প্রতিদিনের মতো স্কুলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই তার জীবন শেষ হয়ে যায় এক ভয়াবহ ঘটনায়। পুলিশ জানিয়েছে, একই ভবনের একটি ফ্ল্যাটে থাকা প্রতিবেশী দম্পতি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্নাকে এ ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) জানিয়েছে, মাত্র দুই মাস আগে ওই দম্পতি ভবনের বিপরীত ফ্ল্যাটে ভাড়া ওঠেন। ঘটনার দিন সকালে রামিসার মা মেয়েকে স্কুলে পাঠানোর জন্য খুঁজতে গিয়ে সন্দেহজনক কিছু লক্ষ করেন এবং পরে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় অভিযুক্ত ব্যক্তি ভেতরে অবস্থান করছিলেন এবং বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করে তার স্ত্রী তাকে সহায়তা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তীতে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলেও জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
ডিএমপি’র অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন নজরুল ইসলাম সংবাদ সম্মেলনে জানান, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে এটি একটি নৃশংস হত্যাকাণ্ড, যার পেছনে গুরুতর অপরাধমূলক উদ্দেশ্য থাকতে পারে। তবে প্রকৃত কারণ এবং অন্যান্য দিক নিশ্চিত করতে ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক রিপোর্টের অপেক্ষা করা হচ্ছে।
মেয়েকে হারিয়ে ভেঙে পড়েছেন রামিসার বাবা আবদুল হান্নান মোল্লা। তিনি গণমাধ্যমের সামনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, বিচারব্যবস্থা নিয়ে তার কোনো আস্থা নেই।
তার ভাষায়, আপনারা বিচার করতে পারবেন না। আমার মেয়েও আর ফিরে আসবে না। এ ধরনের ঘটনার বিচার হয় না, হয় শুধু কিছুদিন আলোচনা, তারপর সব থেমে যায়।
তার এই বক্তব্য শুধু ব্যক্তিগত ক্ষোভ নয়, বরং সমাজে বিচার ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থাহীনতার প্রতিচ্ছবি হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির সব দিক গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে এবং প্রাপ্ত আলামত ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। তদন্ত শেষ হলে বিস্তারিত তথ্য আদালতে উপস্থাপন করা হবে।
এদিকে এলাকাবাসীর মধ্যে এ ঘটনায় চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। অনেকে বলছেন, এমন ভয়াবহ ঘটনা একটি আবাসিক ভবনে কীভাবে ঘটতে পারে তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
এই নির্মম ঘটনাটি আবারও শিশু নিরাপত্তা, প্রতিবেশী সম্পর্ক এবং আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।