Date: May 15, 2026

দৈনিক দেশেরপত্র

collapse
...
Home / জাতীয় / মানবাধিকার ও বাক-স্বাধীনতা নিশ্চিতে হেযবুত তওহীদের ৯ দফা প্রস্তাবনা - দৈনিক দেশেরপত্র - মানবতার কল্যাণে সত্যের প্রকাশ

মানবাধিকার ও বাক-স্বাধীনতা নিশ্চিতে হেযবুত তওহীদের ৯ দফা প্রস্তাবনা

May 15, 2026 12:54:17 PM   অনলাইন ডেস্ক
মানবাধিকার ও বাক-স্বাধীনতা নিশ্চিতে হেযবুত তওহীদের ৯ দফা প্রস্তাবনা

রাজধানীতে হেযবুত তওহীদের গোলটেবিল বৈঠক
 

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা:
‘মানবাধিকার ও বাক-স্বাধীনতা নিশ্চিতে আমাদের প্রস্তাবনা’ শীর্ষক একটি গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।  গতকাল বৃহস্পতিবার (১৪ মে ২০২৬) রাজধানীর উত্তরায় হেযবুত তওহীদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ ও প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেন হেযবুত তওহীদের এমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম। উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে তিনি তার বক্তব্যে বিশ্ব পরিস্থিতি, বাংলাদেশের মানবাধিকার সংকট এবং বাক-স্বাধীনতা হরণের চিত্র তুলে ধরেন। এসময় তিনি চলমান মব সংস্কৃতি ও উগ্রবাদ মোকাবিলায় সংগঠনের পক্ষ থেকে ৯টি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা পেশ করে বিস্তারিত আলোকপাত করেন। এ সময় দেশের বিভিন্ন শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।

হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম তার বক্তব্যে বলেন, মানবাধিকার কোনো করুণা বা দয়া নয়, এটি মানুষের জন্মগত ও স্রষ্টা প্রদত্ত অধিকার। তিনি বলেন, আজ শুধু বাংলাদেশ নয়, সারা বিশ্বে মানবাধিকার ভুলুণ্ঠিত হচ্ছে এবং বাক-স্বাধীনতা স্তব্ধ করা হচ্ছে। দুনিয়া আজ একটি নরককুণ্ডে পরিণত হয়েছে যেখানে সবল দুর্বলের ওপর অত্যাচার করছে এবং শাসকরা শোষিতের ওপর জুলুম চালাচ্ছে। তিনি বিশ্ব পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরে বলেন, বর্তমানে ৩০টিরও বেশি রাষ্ট্রে যুদ্ধ চলছে এবং ইসরাইল ও আমেরিকা মিলে ফিলিস্তিনে ১ লক্ষ মানুষকে হত্যা করেছে ও ২৬ লক্ষ মানুষকে বাস্তুচ্যুত করেছে। এমনকি জাতিসংঘের মহাসচিবকেও স্বীকার করতে হয়েছে যে তারা মানবাধিকার রক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে।

বাংলাদেশ পরিস্থিতি প্রসঙ্গে এমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম বলেন, ব্রিটিশরা চলে যাওয়ার পর এবং স্বাধীনতা যুদ্ধের মাধ্যমে পাকিস্তান থেকে আলাদা হওয়ার পরও গত ৫৫ বছরে দেশে মানবাধিকার ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়নি। জুলাই আন্দোলনে ছাত্র-জনতা বৈষম্যহীন সমাজের স্বপ্ন দেখলেও পরবর্তীতে আমরা দেখলাম মবের রাজত্ব বা ‘মবোক্রেসি’। তিনি অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়েও শত শত মাজারে হামলা হয়েছে এবং হেযবুত তওহীদের ওপর অন্তত ২০টি জায়গায় হামলা ও লুটতরাজ চালানো হয়েছে। এ সময় তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের মধ্যে রংপুরের ডিবিসি নিউজের প্রতিনিধি আমিরুল ইসলামের উদাহরণ টেনে বলেন, আমিরুল ইসলামের বাড়ি দিনে-দুপুরে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এবং তার গবাদিপশু পর্যন্ত রক্তাক্ত করা হয়েছে। এছাড়াও লক্ষ্মীপুর ও পাবনাসহ বিভিন্ন স্থানে কয়েক কোটি টাকার সম্পদ লুট ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে।

হেযুবত তওহীদের ইতিহাস তুলে ধরে তিনি বলেন, হেযবুত তওহীদ কোনো নতুন বা অখ্যাত গোষ্ঠী নয়, এর প্রতিষ্ঠাতা টাঙ্গাইলের বিখ্যাত জমিদার পন্নী পরিবারের সন্তান মোহাম্মদ বায়জীদ খান পন্নী। এই পরিবার বাংলার শেষ স্বাধীন সুলতান দাউদ খান কররানীর বংশধর। তিনি আরও বলেন, বর্তমানের ধর্ম ব্যবসায়ী একটি গোষ্ঠী ইসলামের অপব্যাখ্যা দিয়ে সাধারণ মানুষকে আমাদের বিরুদ্ধে খেপিয়ে তুলছে। তারা আমাদের ছবি এডিট করে এবং মিথ্যা হ্যান্ডবিল ছাপিয়ে প্রচার করছে যে আমরা নাকি নবী দাবি করেছি বা সাহাবীদের অবমাননা করেছি; যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও নোংরা অপপ্রচার। মূলত তারা মব সৃষ্টি করে আমাদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দিচ্ছে এবং আমাদের ৫ জন সদস্যকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, মাজার বা অন্য কোথাও কী হয় তা নিয়ে আপনাদের অভিযোগ থাকতে পারে, কিন্তু আমাদের বাড়িতে কি মদ বা জুয়া চলে? সেখানে কেন হামলা হচ্ছে? আসলে তারা চায় সবাই যেন তাদের সংকীর্ণ চিন্তা মেনে নেয়, যা মূলত এক ধরনের স্বৈরাচার।

অর্থনীতি ও বিচারব্যবস্থা প্রসঙ্গে এমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম বলেন, বর্তমানের সুদভিত্তিক পুঁজিবাদী অর্থনীতি ব্যর্থ হয়েছে। তিনি জাপান ও সুইজারল্যান্ডের উদাহরণ দিয়ে বলেন, সুদ ছাড়াও অর্থনীতি সমৃদ্ধ করা সম্ভব। এছাড়াও তিনি ৪৪ লক্ষ মামলা ঝুলে থাকার বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, এই ঔপনিবেশিক বিচারব্যবস্থা আমূল পরিবর্তন না করলে সাধারণ মানুষ কখনোই ন্যায়বিচার পাবে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, মানুষের তৈরি অসম্পূর্ণ ব্যবস্থার পরিবর্তে আল্লাহর তওহীদের ওপর ভিত্তি করে রাষ্ট্র ও সমাজ পরিচালনা করলেই প্রকৃত বাক-স্বাধীনতা ও মানবাধিকার নিশ্চিত হবে।

অনুষ্ঠানে হেযবুত তওহীদের এমাম মানবাধিকার ও বাক-স্বাধীনতা নিশ্চিতে ৯টি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা পেশ করেন। এগুলো হলো ১. বিশ্বময় চলা সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন ও ছোট রাষ্ট্রগুলোর ওপর আধিপত্য বিস্তার বন্ধ করতে হবে; ২. আদালতগুলোতে আল্লাহর দেওয়া বিধান মোতাবেক দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে এবং ব্রিটিশ প্রবর্তিত অর্থ-নির্ভর বিচারব্যবস্থার সংস্কার করতে হবে; ৩. ভ্রান্ত উগ্রবাদ ও সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষের বিরুদ্ধে জনগণের সামনে সঠিক ধর্মীয় ব্যাখ্যা ও পাল্টা আদর্শ তুলে ধরতে হবে; ৪. সমগ্র মুসলিম বিশ্বে আল্লাহর প্রদত্ত পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা রাষ্ট্রীয় জীবনে প্রতিষ্ঠা করতে হবে; ৫. রাজনৈতিক, ভৌগোলিক ও ধর্মীয় বিভাজন ভুলে মুসলিম বিশ্বের স্বার্থ রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ জাতিসত্তা গড়ে তুলতে হবে; ৬. আন্তঃধর্মীয় সংলাপের মাধ্যমে একে অপরের বাক-স্বাধীনতা ও ধর্মবিশ্বাসকে সম্মান করার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে; ৭. ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলের বহুমুখী শিক্ষাব্যবস্থা বন্ধ করে একটি নতুন ও একক জাতীয় শিক্ষাব্যবস্থা প্রবর্তন করতে হবে; ৮. পুলিশি ব্যবস্থাকে সংস্কার করে তাকে প্রকৃত অর্থে একটি লড়াকু ও জনগণবান্ধব আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে এবং ৯. গণমাধ্যমকে কর্পোরেট ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করে নিরপেক্ষভাবে সবার সমস্যা তুলে ধরার জন্য গণমাধ্যম ব্যবস্থার সংস্কার সাধন করতে হবে।

প্রবন্ধ উপস্থাপন শেষে উন্মুক্ত আলোচনা ও প্রশ্নোত্তর পর্বে এমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম উপস্থিত সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। এসময় তিনি উগ্রবাদ মোকাবিলা এবং বাক-স্বাধীনতা রক্ষায় সংগঠনের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও আদর্শিক অবস্থানের বিষয়ে সাংবাদিকদের করা বিভিন্ন প্রশ্নের বিশদ ব্যাখ্যা প্রদান করেন।

অনুষ্ঠানে সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. মাহবুব আলম মাহফুজের সঞ্চালনায় আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা খাদিজা খাতুন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মশিউর রহমান ও রুফায়দাহ পন্নী, ছাত্রকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক মুখলেছুর রহমানসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

সাংবাদিকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ডিবিসির মাসুম রানা ও আমিরুল ইসলাম, ফোকাস বাংলার হুমায়ুন কবির, ভোরের আলোর আব্দুল্লাহ আল নোমান, এশিয়া পোস্টের হাসান, বিজয় টিভির আলাউদ্দিন আল আজাদ, চ্যানেল এস-এর বিপুল ও শাহাদত হোসেন, দৈনিক সকালের সময়ের মাহমুদ হাসান, দৈনিক নওরোজের রিপন মিয়া, মানবকণ্ঠের স্বপ্না রানীসহ দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিগণ। উপস্থিত সংবাদকর্মীবৃন্দ তাদের মূল্যবান মতামত পেশ করেন এবং মানবাধিকার রক্ষায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার গুরুত্বারোপ করেন।