


নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা:
উগ্রবাদী ও ধর্মব্যবসায়ী একটি কুচক্রী মহল সুপরিকল্পিতভাবে গুজব ও অপপ্রচার ছড়িয়ে ‘মব’ সৃষ্টির মাধ্যমে দেশে চরম অরাজকতা তৈরির ষড়যন্ত্র লিপ্ত রয়েছে। এই গোষ্ঠীটি হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা হ্যান্ডবিল প্রচার করে সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষকে উস্কে দিচ্ছে এবং সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ বিভিন্ন স্থাপনা ও কর্মীদের বাসভবনে হামলার নীল নকশা করছে। এমন আশঙ্কা প্রকাশ করে এই ভয়াবহ ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় এবং জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকার ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন হেযবুত তওহীদের এমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর উত্তরাস্থ হেযবুত তওহীদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত ‘মানবাধিকার ও বাক-স্বাধীনতা নিশ্চিতে আমাদের প্রস্তাবনা’ শীর্ষক এক তাৎপর্যপূর্ণ গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এই আশঙ্কা প্রকাশ করেন। দেশের গণমাধ্যম জগতের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এই সভায় হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম সংগঠনের পক্ষ থেকে বর্তমান সংকট উত্তরণে একটি বিস্তারিত রূপরেখা ও মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
মূল প্রবন্ধে হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “গত কয়েক দশক ধরে হেযবুত তওহীদ নিজস্ব অর্থায়নে উগ্রবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে আদর্শিক লড়াই চালিয়ে আসছে। আমরা সারাদেশে লক্ষ লক্ষ জনসভা ও সেমিনারের মাধ্যমে ইসলামের সঠিক ব্যাখ্যা তুলে ধরছি এবং মানুষের মধ্যে মানবাধিকার ও বাকস্বাধীনতা সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করছি। এটি একদিকে আমাদের ধর্মীয় দায়িত্ব, অন্যদিকে সংবিধান স্বীকৃত নাগরিক অধিকার। কিন্তু আমরা অত্যন্ত উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি যে, একটি চিহ্নিত উগ্রবাদী গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে আমাদের এই সাংবিধানিক অধিকার হরণ করার চেষ্টা করছে। তারা ওয়াজ মাহফিল ও মসজিদের মিম্বর ব্যবহার করে আমাদের বিরুদ্ধে কুৎসিত মিথ্যাচার ও প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, এই অপপ্রচারকারীরা নিজেদের মূল পরিচয় গোপন রেখে “তওহীদী জনতা”, “ইমান-আকিদা সংরক্ষণ কমিটি”, “সচেতন মুসলিম জনতা” কিংবা “ওলামা ও আইম্মা পরিষদ” ইত্যাদি বিচিত্র নামে ব্যানার তৈরি করে মব সৃষ্টির অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তারা অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে জঘন্য ও মিথ্যা তথ্য সম্বলিত হ্যান্ডবিল ছাপিয়ে সেগুলো মসজিদ-মাদ্রাসা ও জনাকীর্ণ স্থানে বিতরণ করছে। অনেক ক্ষেত্রে প্রকাশ্যে জনসভায় দাঁড়িয়ে হেযবুত তওহীদের সদস্যদের হত্যার হুমকি, ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি কিংবা উচ্ছেদের হুমকি দিচ্ছে। হেযবুত তওহীদের এমাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বারবার আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে এই হুমকির বিষয়ে অবহিত করা হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখা যাচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে অপরাধীদের জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজনীয়তাও বোধ করছে না প্রশাসন। এই প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তা উগ্রবাদীদের আরও উৎসাহিত করছে এবং আমাদের সদস্যদের মধ্যে চরম নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করছে।”
সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি অতীতের সহিংসতার স্মৃতি স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “এর আগেও উগ্রবাদীরা হামলা চালিয়ে হেযবুত তওহীদের পাঁচজন সদস্যকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে এবং বহু ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দিয়েছে। সেই হামলার দায় চাপানো হয়েছিল তথাকথিত তওহীদী জনতার ওপর। এই উগ্রগোষ্ঠী শুধু আমাদের নয়, দেশের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম কার্যালয়গুলোতেও হামলা চালিয়েছে। সুতরাং এখনই রাষ্ট্র, গণমাধ্যম এবং নাগরিক সমাজকে একতাবদ্ধ হয়ে এই অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।”
গোলটেবিল বৈঠকের শেষ পর্যায়ে হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম একটি ‘আদর্শিক গণজাগরণ’ বা ‘রেনেসাঁ’ সৃষ্টির আহ্বান জানিয়ে বলেন, “বিশ্বের যেখানেই এ ধরনের উগ্রবাদের উত্থান ঘটেছে, সেখানেই অরাজকতা তৈরি হয়েছে। আসুন আমরা উগ্রবাদ, সাম্প্রদায়িকতা, মব সন্ত্রাস এবং সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হই। একটি শান্তিময় সমাজ গঠনে হেযবুত তওহীদের প্রস্তাবিত রূপরেখা নিয়ে কাজ করি।”
বাক-স্বাধীনতা ও মানবাধিকারের প্রসঙ্গ টেনে হেযবুত তওহীদের এমাম বলেন, “মানবাধিকার কোনো দয়া বা করুণা নয়, এটি সৃষ্টির শুরু থেকে মানুষের জন্মগত অধিকার। আন্তর্জাতিক আইনে জাতিসংঘের ৩০টি দফায় কিংবা বাংলাদেশের ৭২-এর সংবিধানে যে বাক-স্বাধীনতার কথা বলা হয়েছে, আজ তা ভূলুণ্ঠিত। গণতন্ত্রের লেবাসে আজ এক ভয়াবহ স্বৈরাচারী মানসিকতা কায়েম হয়েছে যেখানে ভিন্নমত সহ্য করা হয় না। অথচ কুরআন পরিষ্কার বলছে যে, দ্বীনের ব্যাপারে কোনো জবরদস্তি নেই। কিন্তু আজ দেখা যাচ্ছে, যারা ধর্মের দোহাই দিচ্ছে, তারাই অন্যের মত প্রকাশের অধিকার কেড়ে নিতে চাইছে এবং মব জাস্টিসের মাধ্যমে আইন নিজের হাতে তুলে নিচ্ছে।”
বৈঠকে উপস্থিত সাংবাদিকবৃন্দসহ প্রশাসনের নিকট তিনি হেযবুত তওহীদের নিরাপত্তার বিষয়ে একটি নিরাপদ ও সহনশীল সমাজ গঠনে গণমাধ্যমের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা কামনা করেন।