


বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্র সিলেটের ভোলাগঞ্জ সাদা পাথর আবারও আলোচনায়। দীর্ঘদিন ধরে পাথর লুটপাটের কারণে ঐতিহাসিক ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত এই স্থান প্রায় পাথরশূন্য হয়ে পড়ে। পর্যটকরা এসে হতাশা ও বিস্ময় প্রকাশ করছেন। তবে সম্প্রতি প্রশাসন ও যৌথবাহিনীর বিশেষ অভিযানে বদলে যাচ্ছে চিত্র।
জানা গেছে, যৌথবাহিনীর ধারাবাহিক অভিযানে এখন পর্যন্ত ভোলাগঞ্জ সাদা পাথর থেকে লুট হওয়া প্রায় এক লাখ ঘনফুট পাথর উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত পাথরগুলো ছোট ছোট নৌকার মাধ্যমে পর্যটনকেন্দ্রে প্রতিস্থাপন করছে প্রশাসন। এতে ধীরে ধীরে আবারও জিরো পয়েন্ট এলাকায় প্রাকৃতিক রূপ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।
পাথর লুটপাটে জড়িতদের ধরতে যৌথবাহিনী প্রতিদিনই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে। ইতোমধ্যে পাথর লুটে ব্যবহৃত বহু নৌকা ধ্বংস করা হয়েছে। এর ফলে পাথরখেকো সিন্ডিকেটগুলো চাপে পড়েছে এবং প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানোয় তাদের কার্যক্রম প্রায় স্থবির হয়ে গেছে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনের ফলে সাদা পাথরের সৌন্দর্য ম্লান হয়ে গিয়েছিল। পর্যটকরা এসে শুধু শূন্য নদীর চর দেখে হতাশ হতেন। কিন্তু সাম্প্রতিক প্রশাসনিক পদক্ষেপে মানুষের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে।
ভোলাগঞ্জে বেড়াতে আসা দর্শনার্থীরাও বলছেন, প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনতে এই উদ্যোগ একটি বড় পদক্ষেপ। অনেকেই আশা করছেন, নিয়মিত নজরদারি থাকলে ভোলাগঞ্জ আবারও তার আসল রূপে ফিরবে এবং দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে আকর্ষণের কেন্দ্রস্থল হয়ে উঠবে।
পর্যটন সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সাদা পাথরের সৌন্দর্য ধরে রাখতে হলে শুধু উদ্ধার অভিযানই নয়, পাশাপাশি স্থায়ী ব্যবস্থাপনা এবং কঠোর আইন প্রয়োগ প্রয়োজন। না হলে কিছুদিন পরেই আবারও পাথরখেকোদের কবলে পড়বে ভোলাগঞ্জ।
ভোলাগঞ্জ সাদা পাথরের চলমান এ উদ্ধার অভিযানকে সিলেট অঞ্চলের মানুষ "প্রকৃতি রক্ষার যুদ্ধ" হিসেবে দেখছেন। তারা চাইছেন প্রশাসন ও যৌথবাহিনী এ পদক্ষেপ আরও জোরদার করে স্থায়ী সমাধানের পথ বের করুক।