


মাদারীপুর সদর উপজেলার মোস্তফাপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে ফরম পূরণের টাকা জমা দেওয়ার পরও ২০ জন এসএসসি পরীক্ষার্থী প্রবেশপত্র না পাওয়ায় পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে, যা পরবর্তীতে বিক্ষোভে রূপ নেয়।
সোমবার সকালে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা বিদ্যালয় মাঠে বিক্ষোভ করেন। এ সময় তারা টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে প্রতিবাদ জানান এবং দায়ীদের শাস্তির দাবি তোলেন।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, তারা ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থী। নির্বাচনী পরীক্ষায় একটি বিষয়ে অকৃতকার্য হলেও বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সোহেল মোড়ল ও অফিস সহকারী নুরে আলম তাদের ফরম পূরণের সুযোগ দেন। এ সময় নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থও আদায় করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
শিক্ষার্থীদের দাবি, প্রত্যেকের কাছ থেকে প্রায় ১৫ হাজার টাকা করে নেওয়া হয়েছে। তবে টাকা জমা দেওয়ার পরও তারা প্রবেশপত্র পায়নি। ফলে তারা এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারছে না। অভিযোগে আরও বলা হয়, মোট ২০ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ফরম পূরণের নামে কয়েক লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তাদের অকৃতকার্য থাকা সত্ত্বেও কৃতকার্য দেখিয়ে ফরম পূরণ করা হয়েছে এবং পরে প্রবেশপত্র না দিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে দেওয়া হয়েছে। এতে তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
একাধিক শিক্ষার্থী ও অভিভাবক অভিযোগ করেন, শিক্ষকদের কাছ থেকে এমন প্রতারণা তারা কখনো আশা করেননি। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
অভিযোগের বিষয়ে সহকারী শিক্ষক সোহেল মোড়ল বলেন, বিষয়টি অনিচ্ছাকৃত ভুল হয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের টাকা ফেরত দেওয়া হবে। একই ধরনের বক্তব্য দেন অফিস সহকারী নুরে আলমও।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বোরহান রহমান জানান, বিষয়টি লিখিতভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে মাদারীপুর জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অন্যদিকে মাদারীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াদিয়া শাবাব জানান, অভিযুক্তদের সাময়িক বরখাস্তের প্রক্রিয়া চলছে এবং তদন্ত শেষে চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।