


দেশের সব পাবলিক পরীক্ষায়, বিশেষ করে এসএসসি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস ও নকল রোধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। একই সঙ্গে পরীক্ষায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নজরদারি বাড়ানো, প্রযুক্তি ব্যবহার এবং প্রশাসনিক কঠোরতা বাড়ানোর কথাও জানিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সকালে চট্টগ্রাম কলেজ অডিটোরিয়ামে আসন্ন এসএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে কেন্দ্র সচিবদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, পরীক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে কোনো ধরনের অনিয়ম সহ্য করা হবে না।
সভায় শিক্ষামন্ত্রী জানান, প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে শুধু প্রশাসনিক নয়, আইনি ব্যবস্থাও আরও কঠোর করা হবে। পাশাপাশি নকল প্রতিরোধে বিভিন্ন আধুনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। কেন্দ্র সচিবদের দায়িত্ব আরও জবাবদিহিমূলক করতে তাদের মোবাইল ফোন নম্বর ট্র্যাকিংয়ের আওতায় আনার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে সারা দেশে একক প্রশ্নপত্রে এসএসসি পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে প্রশ্নের মান ও সুরক্ষা আরও নিশ্চিত করা যায়। পাশাপাশি স্কুলের বাইরে কোচিং বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে। কোনো শিক্ষক কোচিং করালে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তবে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক অনুমোদিত কোচিংয়ের ক্ষেত্রে আলাদা সম্মানীর ব্যবস্থা থাকতে পারে।
খাতা মূল্যায়ন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনতে নিয়মিত স্যাম্পলিং পদ্ধতি চালু করা হবে বলেও জানান তিনি। এছাড়া কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফলাফল শূন্য হলেও তাদের এমপিও বাতিল না করার সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে বলে উল্লেখ করেন শিক্ষামন্ত্রী।
সভায় নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা সম্পন্ন করার বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে উপস্থিত কেন্দ্র সচিব ও শিক্ষকরাও তাদের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবি তুলে ধরেন।
মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন প্রফেসর আবদুল্লাহ আল মামুন, প্রফেসর ড. এ.কে.এম. সামছু উদ্দিন আজাদ এবং প্রফেসর ড. পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী।