


এক মাসব্যাপী জমজমাট লড়াইয়ের পর পর্দা নামল পাকিস্তান সুপার লিগ ২০২৬-এর। রোমাঞ্চকর ফাইনালে পেশাওয়ার জালমি ৫ উইকেটে হারিয়ে দেয় হায়দরাবাদ কিংসমেন-কে। এর মাধ্যমে দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা জিতে নেয় বাবর আজম-এর নেতৃত্বাধীন দলটি।
ফাইনালে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ১৮ ওভারে ১২৯ রানে অলআউট হয়ে যায় কিংসমেন। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৫৪ রান করেন সাইম আইয়ুব। অন্যদিকে বল হাতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেন জালমির বোলাররা—বিশেষ করে হার্ডির ৪ উইকেট ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। সঙ্গে বাংলাদেশি পেসার নাহিদ রানা নেন ২টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট।
১৩০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই চাপে পড়ে জালমি। প্রথম ওভারেই ফিরে যান বাবর আজম ও মোহাম্মদ হারিস। এরপর দ্রুত আরও দুটি উইকেট হারিয়ে ৪০ রানে ৪ উইকেট পড়ে যায় দলের।
এই কঠিন পরিস্থিতি থেকে দলকে ঘুরে দাঁড় করান হার্ডি ও আবদুল সামাদ। দুজন মিলে গড়ে তোলেন ৮৫ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি, যা ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়। সামাদ ৪৮ রান করে আউট হলেও হার্ডি শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থেকে দলকে জয় এনে দেন।
এই জয়ের মাধ্যমে ২০১৭ সালের পর আবারও পিএসএল শিরোপা জিতল পেশাওয়ার জালমি। একই সঙ্গে অধিনায়ক হিসেবে এটি বাবর আজম-এর প্রথম বড় ট্রফি, যা তার ক্যারিয়ারে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
শিরোপা জয়ের পাশাপাশি মোটা অঙ্কের পুরস্কারও পেয়েছে জালমি। চ্যাম্পিয়ন দল হিসেবে তারা পেয়েছে ৫ লাখ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকার সমান। অন্যদিকে রানার্সআপ হায়দরাবাদ কিংসমেন পেয়েছে ৩ লাখ ডলার।
পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দেখিয়েছে পেশাওয়ার জালমি। লিগ পর্বে ১০ ম্যাচের মধ্যে ৮টিতে জয় পেয়ে প্লে-অফে ওঠার পরও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে শেষ পর্যন্ত শিরোপা জিতে নেয় তারা।
ব্যক্তিগত পুরস্কারেও ছিল চমক। টুর্নামেন্টসেরা হয়েছেন সুফিয়ান মুকিম (২২ উইকেট)। সেরা ব্যাটার হিসেবে ‘হানিফ মোহাম্মদ ক্যাপ’ জিতেছেন বাবর আজম (৫৮৮ রান)। সেরা বোলার হিসেবে ‘ফজল মাহমুদ ক্যাপ’ও গেছে সুফিয়ান মুকিমের ঝুলিতে। উদীয়মান খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন হুনাইন শাহ, সেরা উইকেটকিপার কুশল মেন্ডিস এবং অলরাউন্ডার অব দ্য টুর্নামেন্ট হয়েছেন শাদাব খান। ‘স্পিরিট অব ক্রিকেট’ পুরস্কার পেয়েছে হায়দরাবাদ কিংসমেন।
সব মিলিয়ে দারুণ এক মৌসুম শেষে শিরোপা জিতে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করল পেশাওয়ার জালমি।