


সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় স্বামীকে হারিয়ে হাসপাতালের বেডে নিথর হয়ে পড়ে আছেন ২৮ বছর বয়সী খাদিজা বেগম। কথা বলতে নিষেধ করেছেন চিকিৎসকরা, তবুও তার চোখের ভাষাই যেন বলে দিচ্ছে অসহনীয় শোক আর বেদনার কথা। রোববার (৩ মে) সকালে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের তেতলীবাজার এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। এতে খাদিজার স্বামী বদরুজ্জামানসহ মোট আটজন শ্রমিক নিহত হন।
বর্তমানে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ক্যাজুয়ালটি বিভাগে চিকিৎসাধীন খাদিজা। বিছানার পাশে বসে আছে তার তিন ছোট সন্তান—নীরব, হতভম্ব, যেন কিছুই বুঝে উঠতে পারছে না। আর খাদিজা, কথা বলতে না পারলেও বারবার চোখ মুছে তাকাচ্ছেন চারপাশে—সম্ভবত খুঁজছেন তার প্রিয় মানুষটিকে, যিনি আর কোনোদিন ফিরবেন না।
জানা যায়, খাদিজা ও তার স্বামী বদরুজ্জামান দুজনেই নির্মাণশ্রমিক ছিলেন। প্রতিদিনের মতো রোববার ভোরেও তারা একসঙ্গে কাজে বের হন। কিন্তু সেই পথই হয়ে ওঠে মৃত্যুর ফাঁদ।
মৃদু কণ্ঠে খাদিজা জানান, “সকালে চা খেয়ে একসঙ্গে বের হয়েছিলাম। আমি তার পাশেই বসেছিলাম। হঠাৎ ট্রাক এসে পিকআপে ধাক্কা দেয়। তখন উনি আমাকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেন… এরপর কী হয়েছে জানি না।”
এই একটুকু কথাতেই স্পষ্ট—নিজের জীবন দিয়ে স্ত্রীকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছিলেন বদরুজ্জামান।
পরিবারের সদস্যরা জানান, চার সন্তানের জনক বদরুজ্জামানই ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী। তার মৃত্যুতে পরিবারটি এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে চারজন ঘটনাস্থলেই এবং বাকি চারজন হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যান। আহতদের চিকিৎসা চলছে।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একদিকে স্বামীর আত্মত্যাগ, অন্যদিকে পরিবারের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা—সব মিলিয়ে খাদিজার জীবন যেন মুহূর্তেই অন্ধকারে ঢেকে গেছে।