


আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চল দীর্ঘকাল ধরে উন্নয়নের ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হয়েছে। বর্তমান সরকার এই অঞ্চলের মানুষের ন্যায্য হিস্যা ফিরিয়ে দিতে বদ্ধপরিকর। বিশেষ করে নতুন রেলপথ স্থাপন, উচ্চশিক্ষার প্রসার এবং স্থানীয় যুবকদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত ‘দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের উন্নয়ন’ বিষয়ক এক গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বৃহত্তর কুষ্টিয়া কল্যাণ ফোরাম এই সম্মেলনের আয়োজন করে।
মন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, এলাকার উন্নয়ন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতভেদ থাকতে পারে, কিন্তু উন্নয়নের প্রশ্নে আমরা সবাই একমত। আমাদের রাজনীতিকদের এই চিন্তার ঐক্যই দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলকে দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তিতে রূপান্তর করবে। আমরা সবাই হাতে হাত মিলিয়ে এই জনপদকে এগিয়ে নিয়ে যাব।
বৃহত্তর কুষ্টিয়া কল্যাণ ফোরামের সভাপতি ও সিনিয়র সচিব (পিআরএল) ড. খ. ম. কবিরুল ইসলামের সভাপতিত্বে সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ। তিনি বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক ও কর্মমুখী করতে না পারলে দক্ষ জনবল গড়ে তোলা সম্ভব নয়। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে কেবল তাত্ত্বিক শিক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে গবেষণা ও উদ্ভাবনের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
ফোরামের মহাপরিচালক মহ: মনিরুজ্জামান তার বক্তব্যে বলেন, এই অঞ্চলের উন্নয়নের জন্য একটি সুসংহত রোডম্যাপ প্রয়োজন। কৃষি ও শিল্পের সমন্বিত অগ্রগতি না হলে উন্নয়ন টেকসই হবে না। এক্সপোর্ট প্রমোশন ব্যুরোর মহাপরিচালক মো. রুহুল আমিন তার মূল প্রবন্ধে জানান, দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলে রপ্তানিমুখী শিল্প ও মৎস্য খাতের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। সঠিক বিনিয়োগ নিশ্চিত করা গেলে এটি দেশের জাতীয় প্রবৃদ্ধিতে বড় অবদান রাখবে।
সম্মেলনে এই অঞ্চলের সংসদীয় আসনগুলোর প্রতিনিধিরা তাঁদের সুনির্দিষ্ট দাবি ও পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। বক্তব্য রাখেন কুষ্টিয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল গফুর, কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. আমির হামজা, কুষ্টিয়া-৪ আসনের মো. আফজাল হোসেন, চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল, চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ রুহুল আমিন, মেহেরপুর-১ আসনের মো. তাজউদ্দিন খান, মেহেরপুর-২ আসনের মো. নাজমুল হুদা, ঝিনাইদহ-২ আসনের আলী আজম মোহাম্মদ আবু বকর, ঝিনাইদহ-৩ আসনের মো. মতিয়ার রহমান এবং ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু তালিব।
এছাড়াও ঝিনাইদহ জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. আব্দুল মজিদ, জুলাই বিপ্লবে শহীদ ইয়ামিনের পিতা মো. মহিউদ্দিন, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব আমিনুর রহমান এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব কাজী আতিউর রহমান আলোচনায় অংশ নেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন নারী উন্নয়ন শক্তির নির্বাহী পরিচালক ড. আফরোজা পারভীন ও ন্যাশনাল ডিবেট ফেডারেশন বাংলাদেশের চেয়ারম্যান এ কে এম শোয়েব।
বক্তারা দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলকে জলবায়ু সহনশীল ও অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী করতে সরকারি-বেসরকারি সকল অংশীজনের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর আহ্বান জানান। সম্মেলনে কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও ঝিনাইদহ জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।