


শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে রাতের আঁধারে বেকু দিয়ে তিন ফসলি কৃষি জমি কেটে মাছের ঘের তৈরির অভিযোগ উঠেছে। প্রভাবশালী একটি চক্র অন্তত ১০০ জন কৃষকের জমি জোরপূর্বক দখল করে মাটি কেটে বাঁধ নির্মাণ করছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। এতে বাধা দিতে গেলে কৃষকদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি তাদের। ফসলি জমি হারানোর শঙ্কায় ঘের নির্মাণ কার্যক্রম বন্ধ এবং জমি ফেরতের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ডামুড্যা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের কয়েকশ একর জমিতে দীর্ঘদিন ধরে ধান ও মরিচসহ বিভিন্ন ফসল চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন প্রায় ২০০ কৃষক পরিবার। প্রতিবছর এসব জমিতে প্রায় ১০ হাজার মণ মরিচ এবং ৫ হাজার মণ আউশ ধান উৎপাদন হয়। সম্প্রতি ওই এলাকার তিন ফসলি জমিতে প্রভাবশালী রিপন উঝা ও লাজুক নামে দুই ব্যক্তি মাছের ঘের তৈরির উদ্যোগ নেন।
অভিযোগ রয়েছে, কৃষকদের সম্মতি ছাড়াই জমি দখল করে রাতের আঁধারে বেকু দিয়ে গভীরভাবে মাটি কেটে বিশাল বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে। দারুল আমান ইউনিয়নের কাইলারা গ্রামে লিটন চেয়ারম্যানের বাড়ির পেছনে এবং কনেশ্বর ইউনিয়নের উত্তর সৈয়দ বস্তা এলাকায় নান্নু ছৈয়ালের বাড়ির পূর্ব পাশে দিন-রাত পাঁচটি বেকু দিয়ে কাজ চলছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, ইতোমধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক নান্নু ছৈয়াল বলেন, আমার জমি মাছের ঘের করতে দেব না বলায় আমাকে নানা ধরনের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। কিছু কৃষককে বেশি টাকার লোভ দেখিয়ে রাজি করানো হয়েছে, আর যারা রাজি হয়নি তাদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে।”
দারুল আমান ইউনিয়নের কৃষক আলিম উদ্দিন বেপারী বলেন, রিপন উঝা জোর করে আমার জমির মাটি কেটে ফেলছে। জমি না দেওয়ায় আমাকে হুমকি দিচ্ছে। এই জমিই আমার পরিবারের একমাত্র জীবিকা।”
কনেশ্বর ইউনিয়নের কৃষক আমির হোসেন বলেন, “এই জমিতে মরিচ, ধান ও শাকসবজি চাষ করে সংসার চালাই। আমার ২০ শতক জমি লাজুক দখল করে ঘের কাটছে। এখন আমরা কীভাবে বাঁচবো? সরকারের কাছে জমি ফেরতের দাবি জানাই।”
আরেক কৃষক কালাম বলেন, রাতের আঁধারে বেকু দিয়ে মাটি কেটে বাঁধ দিচ্ছে। এতে বর্ষা মৌসুমে পুরো এলাকা জলাবদ্ধ হয়ে যাবে। আশপাশের জমিতে আর কোনো ফসল ফলানো সম্ভব হবে না। ধারদেনা করে চাষ করি, এখন সব শেষ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে বেকু মালিক লাজুক বলেন, জোরপূর্বক কিছু করা হয়নি। যাদের জমি দরকার, তাদের সঙ্গে সমঝোতা করে লিজ নেওয়া হয়েছে। কৃষকরাই নিজেরা লিজ দিয়েছে।” প্রশাসনের অনুমতি নেওয়া হয়েছে কি না এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, প্রশাসনের বিষয়টা রিপন ভাই দেখছেন।”
এ বিষয়ে ডামুড্যা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সালাহউদ্দিন আইয়ূবী বলেন, “কৃষি জমির টপসয়েল কাটা বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন অনুযায়ী অপরাধ। এতে জমির উর্বরতা নষ্ট হয় এবং ভবিষ্যতে ফসল উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। অবৈধভাবে মাটি কাটার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ না হলে ডামুড্যার বিস্তীর্ণ কৃষি জমি স্থায়ীভাবে নষ্ট হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় কৃষকরা।