Date: May 17, 2026

দৈনিক দেশেরপত্র

collapse
...
Home / সারাদেশ / চট্টগ্রাম / ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ গেল মায়ের! - দৈনিক দেশেরপত্র - মানবতার কল্যাণে সত্যের প্রকাশ

ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ গেল মায়ের!

May 17, 2026 01:35:58 PM   অনলাইন ডেস্ক
ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ গেল মায়ের!

কক্সবাজারের উখিয়ায় হামলার সময় ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে পিটুনিতে প্রাণ হারিয়েছেন এক মা। নিহতের পরিবারের দাবি, বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের হামলায় মৃত্যু হয়েছে ছৈয়দা বেগমের (৪৮)। শনিবার (১৬ মে) রাত ৮টার দিকে উখিয়ার রাজাপালং ইউনিয়নের টাইপালং এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত ছৈয়দা বেগম শ্রমজীবী সাব্বির আহমদের স্ত্রী। তার ছেলে এসএম ইমরান একটি এনজিওতে কর্মরত বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, কয়েকদিন আগে দেওয়ালে ‘জয় বাংলা’ লেখাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়। এ নিয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতারা থানায় অভিযোগ দিলেও মামলা হয়নি। এরপর থেকেই এলাকায় উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছিল।

শনিবার রাতে স্থানীয় ছাত্রদল নেতা জিসানের একটি ফেসবুক স্ট্যাটাসে ছাত্রলীগ নেতা ইউনুস ‘হা হা’ রিয়েক্ট দিলে বিষয়টি নিয়ে বিরোধ শুরু হয়। অভিযোগ রয়েছে, এ ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ইউনুসকে মারধর শুরু করেন। তাকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে এনজিওকর্মী এসএম ইমরানকেও মারধর করা হয়।

পরিস্থিতি দেখে ছেলে ইমরানকে রক্ষা করতে ছুটে যান তার মা ছৈয়দা বেগম। পরিবারের অভিযোগ, তখন হামলাকারীরা তাকেও এলোপাতাড়ি মারধর করে। এতে গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই অজ্ঞান হয়ে পড়েন তিনি।

পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

হাসপাতালে নিহতের স্বজনরা অভিযোগ করেন, স্থানীয় বিএনপি নেতা মিজান সিকদার, আব্দুল করিম, সাইফুল সিকদার, ছাত্রদল নেতা জিসান, আকাশ, শামসুল আলমসহ কয়েকজনের নেতৃত্বে হামলা চালানো হয়।

তবে অভিযুক্তদের কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

উখিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি সরোয়ার জাহান চৌধুরী বলেন, “খোঁজ নিয়ে জেনেছি এমন কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি। ওই নারী ঘরে পড়ে গিয়ে মারা যেতে পারেন। তারপরও অভিযোগ যেহেতু উঠেছে, তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনকে বলা হয়েছে।”

উখিয়া থানার ওসি মুজিবুর রহমান বলেন, “অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে আনা এক নারীর মৃত্যুর খবর পেয়েছি। কীভাবে মৃত্যু হয়েছে তা এখনো নিশ্চিত নয়। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”