Date: May 05, 2026

দৈনিক দেশেরপত্র

collapse
...
Home / সারাদেশ / খুলনা / কুষ্টিয়ায় অন্ধ সাজেদার মানবেতর জীবন: দুমুঠো অন্নের জন্য এক অন্ধ মায়ের হাহাকার - দৈনিক দেশেরপত্র - মানবতার কল্যাণে সত্যের...

কুষ্টিয়ায় অন্ধ সাজেদার মানবেতর জীবন: দুমুঠো অন্নের জন্য এক অন্ধ মায়ের হাহাকার

May 05, 2026 06:51:30 PM   অনলাইন ডেস্ক
কুষ্টিয়ায় অন্ধ সাজেদার মানবেতর জীবন: দুমুঠো অন্নের জন্য এক অন্ধ মায়ের হাহাকার

চোখ আছে কিন্তু পৃথিবী দেখার আলো নেই। পেট আছে কিন্তু ক্ষুধা মেটানোর অন্ন নেই। এক জোড়া অন্ধ চোখ নিয়ে নিঃশব্দে কেঁদে চলেছেন এক নারী। তার কান্নার শব্দে চারপাশের বাতাস ভারী হয়ে উঠলেও সেই আর্তি মানুষের হৃদয়ে পৌঁছাতে সময় লাগছে অনেক। ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে সাজেদা খাতুন এখন একাকীত্বের এক অতল গহ্বরে বন্দি হয়ে আছেন।

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার তেকালা গ্রামের বাসিন্দা এই সাজেদা খাতুন। বাবা বানেজ মিস্ত্রি মারা গেছেন অনেক আগে। মা-বাবার আদর মেশানো ছায়া হারানোর পর নিয়তি তার চোখের জ্যোতিটুকুও কেড়ে নিয়েছে। সাজেদার কাছে দিন আর রাতের পার্থক্য শুধু একরাশ অন্ধকার। যখন ক্ষুধার জ্বালা তীব্র হয়, তখন তার অন্ধ হাত দুটো হাতড়ে ফেরে একটু খাবারের আশায়। তার জীবনে এখন কোনো স্বপ্ন নেই, আছে শুধু একবেলা দুমুঠো ভাতের জন্য অন্তহীন অপেক্ষা।

বর্তমানে সাজেদার নিজের কোনো স্থায়ী আশ্রয় নেই, নেই ভরসা করার মতো কোনো আপনজন। গ্রামের মানুষের সামান্য দয়ার ওপর ভর করেই চলে তার জীবন। কোনোদিন খাবার জোটে, আবার কোনোদিন স্রেফ পানি খেয়েই কাটাতে হয় নির্ঘুম রাত। ক্ষুধার যন্ত্রণা বড় কঠিন হলেও সাজেদা মুখ ফুটে কারো কাছে কিছু বলতে পারেন না। আত্মসম্মান আর সংকোচ তার কষ্টের কথাগুলোকে সব সময় আড়ালে রাখে। তার মলিন মুখ আর শুকনো চোখের কোণগুলোই বলে দেয় কতটা অবহেলা আর বঞ্চনায় কাটছে তার দিনকাল।

সাজেদা খাতুনের এই অসহায়ত্ব আজ আমাদের বিবেককে প্রশ্নবিদ্ধ করে। স্থানীয়দের দাবি, সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও সমাজের বিত্তবানদের সামান্য একটু স্থায়ী সহযোগিতা বদলে দিতে পারে তার এই অন্ধকার জীবন। সাজেদার মতো অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটানো আমাদের সবার দায়িত্ব। আমরা কি পারি না এই অন্ধ মানুষটির পাশে দাঁড়িয়ে তার জীবনের অন্ধকার কিছুটা দূর করতে? সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।