


হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট কন্যাসন্তানের জন্মের সুখবরের পর তাকে অভিনন্দন জানিয়েছে ইরান। তবে একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের এক সামরিক হামলায় শিশু নিহত হওয়ার অভিযোগ তুলে ওয়াশিংটনের কঠোর সমালোচনাও করেছে তেহরান, যা নতুন কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি করেছে।
হোয়াইট হাউসের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ প্রেস সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ক্যারোলিন লেভিট সম্প্রতি তার দ্বিতীয় সন্তানের জন্মের সুখবর জানান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি জানান, গত ১ মে তার কন্যাসন্তান ভিভিয়ানা-যাকে পরিবারে সবাই ‘ভিভি’ বলে ডাকে-জন্মগ্রহণ করেছে। তিনি একটি ছবি শেয়ার করেন, যেখানে দেখা যায় নবজাতক কন্যাকে বুকে জড়িয়ে রেখেছেন তিনি।
পোস্টে লেভিট লেখেন, মা ও সন্তান দুজনই সুস্থ আছেন এবং তার বড় সন্তানও নতুন সদস্যকে পেয়ে অত্যন্ত আনন্দিত।
এই ব্যক্তিগত আনন্দঘন মুহূর্তের পরপরই বিষয়টি আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক আলোচনায় রূপ নেয়। লেভিটের পোস্ট শেয়ার করে আর্মেনিয়ায় নিযুক্ত ইরানি দূতাবাস এক্সে তাকে অভিনন্দন জানায়। তবে একই পোস্টে যুক্ত হয় কঠোর রাজনৈতিক মন্তব্য, যা নতুন বিতর্কের জন্ম দেয়।
ইরানি দূতাবাস তাদের বার্তায় উল্লেখ করে, “শিশুরা নিষ্পাপ ও ভালোবাসার পাত্র।” এরপর তারা মিনাবের একটি স্কুলে হামলার প্রসঙ্গ টেনে দাবি করে, সেখানে ১৬৮ জন শিশু নিহত হয়েছিল, যাদেরও একইভাবে নিষ্পাপ শিশু হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
তাদের অভিযোগ অনুযায়ী, ওই ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর ভূমিকা ছিল এবং সে ঘটনার সাফাই দেওয়ার বিষয়টি তারা সমালোচনার সঙ্গে তুলে ধরে।
উল্লেখ্য, ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম দাবি করে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মিনাবের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভয়াবহ হামলায় বহু শিশু নিহত হয়। ওই সময় মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে পাল্টাপাল্টি হামলা চলছিল বলে জানানো হয়।
শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওই হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করেছিলেন। তবে পরবর্তীতে মার্কিন সামরিক বাহিনীর প্রাথমিক তদন্তে উঠে আসে ভিন্ন তথ্য। তদন্ত অনুযায়ী, লক্ষ্য নির্ধারণে ভুলের কারণে একটি মার্কিন টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র ভুলবশত স্কুলটিতে আঘাত হানে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে যুদ্ধকালীন সময়ে বেসামরিক নাগরিক, বিশেষ করে শিশুদের মৃত্যু এবং তথ্য উপস্থাপনের স্বচ্ছতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের ভূমিকা আবারও প্রশ্নের মুখে পড়েছে বলে বিশ্লেষকদের মত।