


বাংলাদেশ হেফাজত ইসলামের নায়েবে আমির আব্দুল হামীদ শনিবার (৬ ডিসেম্বর) মানিকগঞ্জে হেফাজত ইসলাম জেলা শাখার আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘শানে তাওহীদ’ মহাসমাবেশে সতর্কবার্তা দিয়েছেন। মানিকগঞ্জ বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে পাঁচ দফা দাবিতে অনুষ্ঠিত সমাবেশে তিনি বলেন, দেশের আলেম-ওলামাদের গ্রেপ্তার করা হলে ডিসি ও এসপিদের খোলা মাঠে বিচার করা হবে।
তিনি আরও দাবি করেন, ১৭ অক্টোবর ড. ইউনূস সরকারের ঘোষিত লালন তিরোদান দিবস বাতিল করতে হবে। তাঁর কথায়, দেশে বর্তমানে লালনের মূর্তি তৈরি হচ্ছে এবং তার পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যা ইসলামবিরোধী কার্যকলাপের অংশ। আব্দুল হামীদ আরও বলেন, যদি বাউলদের ইসলামবিরোধী কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকে, তবে হেফাজত ৬৪ জেলায় একযোগে আন্দোলন ও সমাবেশ করবে।
সমাবেশে মানিকগঞ্জ জেলা হেফাজত ইসলামের সভাপতি মাওলানা সাঈদ নূর সভাপতিত্ব করেন। অনুষ্ঠানে খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মুহাদ্দিস শেখ সালাহউদ্দিনসহ হেফাজতের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।
পটভূমি হিসেবে উল্লেখ করা যায়, গত ৪ নভেম্বর মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার জাবরা এলাকায় খালা পাগলীর মেলার পালাগানে বাউলশিল্পী আবুল সরকার ধর্ম অবমাননাকর মন্তব্য করেছেন বলে অভিযোগ ওঠে। এই মন্তব্যের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনা শুরু হয়। জের ধরে গত ১৯ নভেম্বর রাতে মাদারীপুরের একটি গানের আসর থেকে তাকে আটক করে মানিকগঞ্জ ডিবি পুলিশ। এর পর ২১ নভেম্বর আবুল সরকারের মুক্তির দাবিতে মানিকগঞ্জ প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। একই সময়ে ‘মানিকগঞ্জ জেলার সর্বস্তরের আলেম-ওলামা ও তৌহিদি জনতা’ ব্যানারে জেলা শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশও অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে হেফাজতের নেতৃত্ব পরিস্কারভাবে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, ধর্ম অবমাননা ও ইসলামবিরোধী কার্যকলাপে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।