


ছাত্ররাজনীতি থেকে মূলধারার রাজনীতিতে অংশগ্রহণের সুযোগ নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) অতীতের রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনায় না এনে নতুনদের দলে নেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর, একই যুক্তিতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়ার দাবি তুলেছেন বিএনপি নেতা রাশেদ খান।
রোববার দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, যদি ছাত্রলীগসহ বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের সাবেক নেতাকর্মীরা নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মে জায়গা পেতে পারেন, তাহলে আওয়ামী লীগের ক্ষেত্রেও একই সুযোগ থাকা উচিত।
এর আগে এক সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ ইসলাম, যিনি এনসিপির আহ্বায়ক, জানান—কেউ অতীতে ছাত্রদল, ছাত্রশিবির বা ছাত্রলীগ করুক, সেটি তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়। বর্তমান সময়ে এনসিপিতে যোগ দিলে সবাইকেই দলের আদর্শ ধারণ করে কাজ করতে হবে।
নাহিদ ইসলামের এই বক্তব্যের পর বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রতিক্রিয়া জানান রাশেদ খান। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যদি অতীতের রাজনৈতিক পরিচয় উপেক্ষা করে নতুন করে রাজনীতি করার সুযোগ থাকে, তাহলে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা কেন ‘রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ’ হিসেবে নতুনভাবে রাজনীতিতে অংশ নিতে পারবেন না।

রাশেদ খান তার বক্তব্যে বলেন, আওয়ামী লীগ একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দল এবং এর সঙ্গে যুক্ত সবাইকে রাজনৈতিকভাবে প্রান্তিক করে দেওয়া সমাধান হতে পারে না। বরং তাদের জন্য একটি পুনর্বাসনের পথ খোলা রাখা উচিত।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা চাইলে বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে বা নতুনভাবে সংগঠিত হয়ে রাজনীতিতে অংশ নিতে পারেন। বিষয়টি নিয়ে সংসদে আলোচনা ও প্রস্তাব আনার কথাও বলেন তিনি।
তার এই মন্তব্য ইতোমধ্যে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এটি ভবিষ্যতের রাজনৈতিক সমীকরণে প্রভাব ফেলতে পারে।