


গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে এডমিট কার্ড জটিলতার কারণে অনিশ্চয়তায় থাকা ৬৫ জন পরীক্ষার্থী শেষ পর্যন্ত এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে পেরেছে। দীর্ঘ টানাপোড়েন ও আন্দোলনের পর প্রশাসনের হস্তক্ষেপে রাতেই সমাধান হয় সমস্যা, ফলে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে পরীক্ষাকেন্দ্রে বসে শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার আলমগীর হোসেন। তিনি জানান, জুনদহ উচ্চ বিদ্যালয় ও গৃধারীপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের মোট ৬৫ জন পরীক্ষার্থী নির্ধারিত কেন্দ্রে সফলভাবে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। পরীক্ষা শুরুর দেড় ঘণ্টা আগেই তারা এডমিট কার্ড হাতে পেয়ে কেন্দ্রে উপস্থিত হয়।
এর আগে সোমবার দুপুরে এডমিট না পাওয়ায় চরম অনিশ্চয়তায় পড়ে যায় শিক্ষার্থীরা। গৃধারীপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের ২৯ জন এবং জুনদহ উচ্চ বিদ্যালয়ের ৩৬ জন শিক্ষার্থীসহ মোট ৬৫ জন পরীক্ষার্থী প্রথমে পলাশবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে সমাধান চেয়ে যান। কিন্তু তাৎক্ষণিক সমাধান না পাওয়ায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
পরবর্তীতে রাত ৯টার দিকে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা পলাশবাড়ী পৌর শহরের আদর্শ ডিগ্রি কলেজ এলাকা ও ফিলিং স্টেশনের সামনে মহাসড়ক অবরোধ করেন। এতে দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকে পড়ে, সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ জাবের আহমেদ, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আল ইয়াশা রহমান দাপাদার এবং থানা পুলিশের কর্মকর্তারা। তারা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দেন।
পরে ইউএনও জানান, শিক্ষা বোর্ডের সঙ্গে জরুরি যোগাযোগ করে রাতের মধ্যেই এডমিট কার্ড সরবরাহের ব্যবস্থা করা হবে। প্রশাসনের আশ্বাসের পর রাত প্রায় সাড়ে ১০টার দিকে অবরোধ তুলে নেয় শিক্ষার্থীরা।
এদিকে ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট দুই প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকদের শোকজ করেছে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস।
জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, এবছর গাইবান্ধা জেলায় মোট ৬৮টি কেন্দ্রে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে ৩৪ হাজার ৫২৭ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে এসএসসি পরীক্ষার্থী ২৬ হাজার ২১ জন, ভোকেশনাল শাখায় ২ হাজার ৫৯৮ জন এবং দাখিল পরীক্ষায় ৫ হাজার ৯০৮ জন শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে।
এডমিট জটিলতার উত্তেজনা শেষে শেষ পর্যন্ত পরীক্ষায় বসতে পারায় স্বস্তি ফিরেছে ওই ৬৫ শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারে।