


রাজধানীজুড়ে হঠাৎ করেই বাড়ানো হয়েছে পুলিশের সতর্কতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা। নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠনের সম্ভাব্য তৎপরতা, ঝটিকা মিছিল ও উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড ঠেকাতে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে নেমেছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো বিভিন্ন পোস্ট ও প্রচারণাকে নজরদারিতে রেখে রাতভর টহল, তল্লাশি ও গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শনিবার (১৬ মে) দিবাগত রাতে ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার এস এন মো. নজরুল ইসলাম রাজধানীর নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে গণমাধ্যমকে এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের সব ইউনিটকে সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে এবং যেকোনো ধরনের নাশকতা বা অবৈধ কর্মকাণ্ড কঠোরভাবে দমন করা হবে।
ডিএমপির একটি ঊর্ধ্বতন সূত্র জানায়, গত বৃহস্পতিবার রাতেই রাজধানীর সব থানায় বিশেষ নির্দেশনা পাঠানো হয়। ওই নির্দেশনায় গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, অলিগলি, প্রবেশপথ ও কৌশলগত এলাকাগুলোতে বাড়তি টহল এবং নজরদারি বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। বিশেষ করে ভোররাতকে কেন্দ্র করে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ও সন্দেহভাজন চলাচলের ওপর কঠোর নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে নিষিদ্ধঘোষিত একটি সংগঠন রাজধানীতে ঝটিকা মিছিল বা প্রচারমূলক কর্মসূচি পালনের চেষ্টা করতে পারে- এমন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা এড়াতেই পুলিশ আগাম প্রস্তুতি নিয়েছে বলে জানা গেছে।
এরই মধ্যে শনিবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে বনানী থানাধীন ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়কে অভিযান চালিয়ে মো. আশিক তপেদার (২৪) নামে এক যুবককে আটক করে পুলিশ। তার কাছ থেকে নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠনের পোস্টার, লিফলেট ও বিভিন্ন প্রচারপত্র জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে থানা পুলিশ। আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার নজরুল ইসলাম বলেন, “কোনো নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের দিবস আছে কি না, সেটি আমাদের মূল বিবেচনার বিষয় নয়। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিশেষ করে ফেসবুকে উসকানিমূলক প্রচারণা ও অপপ্রচারের কিছু বিষয় নজরে এসেছে। সেগুলো গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে। যেকোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিহত করতে গোয়েন্দা নজরদারি, টহল ও তল্লাশি কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে।”
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় রাতভর পুলিশের টহল বাড়ানোর পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ মোড়, বাসস্ট্যান্ড ও জনসমাগমস্থলেও বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং যেকোনো অপতৎপরতা প্রতিরোধে তাদের এই বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।