Date: April 19, 2026

দৈনিক দেশেরপত্র

collapse
...
Home / সারাদেশ / ঢাকা / মৌচাষে বদলেছে মুয়াজ্জিন হোসেনের জীবন, মাসে লাখ টাকা আয় - দৈনিক দেশেরপত্র - মানবতার কল্যাণে সত্যের প্রকাশ

মৌচাষে বদলেছে মুয়াজ্জিন হোসেনের জীবন, মাসে লাখ টাকা আয়

December 27, 2025 04:17:53 PM   দেশেরপত্র ডেস্ক
মৌচাষে বদলেছে মুয়াজ্জিন হোসেনের জীবন, মাসে লাখ টাকা আয়

মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর উপজেলার জামির্তা ইউনিয়নের সরিষার ক্ষেত এখন মৌমাছির গুঞ্জনে মুখর। ধীরে ধীরে ভোরের রোদ কুয়াশার চাদর ভেদ করে উঁকি দিলে চারপাশ হলুদ রঙের সরিষার ফুলে ভরে ওঠে। এ মাঠেই স্বপ্ন বুনছেন মুয়াজ্জিন হোসেন—একজন শিক্ষিত যুবক, যিনি চাকরির বাজারে না গিয়ে মৌচাষকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন।

মুয়াজ্জিন হোসেন একজন উচ্চশিক্ষিত উদ্যোক্তা; তিনি একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিবিএ এবং এমবিএ করেছেন। তবে চাকরির প্রতিযোগিতামূলক বাজারে না গিয়ে তিনি ঘর ছাড়েন এবং বাগেরহাটের একজন গুরুর কাছ থেকে মৌচাষ শিখেন। শুরুতে মাত্র ৪টি মৌমাছির বাক্স দিয়ে কাজ শুরু হলেও আজ তার খামারে ১০০টির বেশি বাক্স রয়েছে। মুয়াজ্জিন জানালেন, “বছরে প্রায় ৬ থেকে ৭ লাখ টাকা আয় করি। মৌচাষ আমার পেশা হয়ে উঠেছে।”

মৌচাষ শুধু তার ব্যক্তিগত আয়ই বৃদ্ধি করছে না, স্থানীয় কৃষকদের ক্ষেতেও দ্বিমুখী লাভ এনে দিয়েছে। সরিষার ফসলের পাশে মৌমাছির উপস্থিতি ফুলের পরাগায়ন বাড়িয়েছে, ফলে ফলন বৃদ্ধি পেয়েছে। কৃষকরা জানাচ্ছেন, “গত দুই বছরে সরিষার দানা বড় হয়েছে, তেলও বেশি পাওয়া যাচ্ছে। আমাদেরও লাভ, দেশেরও লাভ।”

স্থানীয় ও বিদেশি ক্রেতারা সরিষা ক্ষেতের খাঁটি মধু সংগ্রহে আগ্রহী। মুয়াজ্জিনের খামারে প্রতি কেজি মধুর দাম ন্যায্যভাবে নির্ধারণ করা হয়, মাত্র ৮০০ টাকা। ক্রেতারা বিশ্বাস করে বলেন, অনলাইনে অনেকেই খাঁটি মধু বিক্রি করে, কিন্তু এখানে মৌমাছি থেকে সরাসরি সংগ্রহ হওয়ায় ভরসা আছে।

সহকারি চাষি পার্থ বলেন, “মুয়াজ্জিন ভাইয়ের খামারে কাজ করতে পেরে অনুপ্রাণিত হচ্ছি। আমারও স্বপ্ন, একদিন আমার মতো খামার তৈরি করব।” মৌচাষ শুধুমাত্র আয়ের উৎস নয়, এটি গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী করার দিকেও গুরুত্বপূর্ণ।

কৃষি বিভাগের উপ-সহকারী কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, “মৌমাছি সরিষার ফুলে পরাগায়ন বৃদ্ধি করছে, যা সরাসরি ফলন বৃদ্ধিতে সহায়ক। আমরা নিয়মিত চাষিদের পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দিচ্ছি।”

মুয়াজ্জিন হোসেনের উদ্যম ও সফলতা দেখিয়ে দিচ্ছে, উচ্চশিক্ষিত যুবকেরাও গ্রামীণ উদ্যোক্তা হয়ে দেশের কৃষিনির্ভর অর্থনীতি এগিয়ে নিতে পারে।