


ভোলার চরফ্যাশনে সাত বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে সেলিম খন্দকার (৫৫) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত ব্যক্তি এনসিপির বরিশাল বিভাগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শাহাদাত খন্দকার মঞ্জুর বাবা। মামলা দায়েরের পর পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় বইছে।
মামলার এজাহার এবং স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ এপ্রিল সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে ভুক্তভোগী শিশুটি অন্যান্য শিশুদের সঙ্গে অভিযুক্ত সেলিম খন্দকারের বাড়ির পাশে খেলাধুলা করছিল। এক পর্যায়ে সেলিম খন্দকার শিশুটিকে খাবার এবং টাকার প্রলোভন দেখিয়ে তার একতলা ভবনের শয়নকক্ষে নিয়ে যান।
ঘরে নেওয়ার পর তিনি দরজা বন্ধ করে দিয়ে শিশুটিকে অনৈতিক প্রস্তাব দেন। শিশুটি রাজি না হওয়ায় তিনি জোরপূর্বক তার মুখ চেপে ধরে তাকে ধর্ষণ করেন। ঘটনার পর শিশুটি প্রচণ্ড ভয় পেয়ে যায়। পরদিন ২৯ এপ্রিল সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শিশুটি বাড়িতে ফিরে শারীরিক অসুস্থতা ও তীব্র ব্যথা অনুভব করলে কান্নাকাটি শুরু করে। পরিবারের সদস্যরা বারবার জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে সে সেলিম খন্দকারের পাশবিক নির্যাতনের কথা প্রকাশ করে।
এই ঘটনায় গত ৩০ এপ্রিল ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে শশীভূষণ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে সেলিম খন্দকারকে গ্রেপ্তার করে।
শশীভূষণ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ফিরোজ আহমেদ জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত সেলিম খন্দকার নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন। মামলার নথিপত্রসহ তাকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে এবং আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
গ্রেপ্তারকৃত সেলিম খন্দকার চরফ্যাশন উপজেলার হাজারীগঞ্জ ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত মফিজ খন্দকারের ছেলে। তার ছেলে শাহাদাত খন্দকার মঞ্জু এনসিপির বরিশাল বিভাগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
তবে ঘটনার বিষয়ে শাহাদাত খন্দকার মঞ্জু মুঠোফোনে দাবি করেছেন, তার বাবার বিরুদ্ধে আনা এই অভিযোগ সত্য নয়। পারিবারিক বিরোধের জেরে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে এই মামলা দেওয়া হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
একটি সাত বছরের শিশুর ওপর এমন পাশবিক নির্যাতনের ঘটনায় স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তারা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।