Date: April 17, 2026

দৈনিক দেশেরপত্র

collapse
...
Home / সারাদেশ / ঢাকা / ভালোবাসার অনন্য দৃষ্টান্ত: স্ত্রীর জীবন বাঁচাতে নিজের কিডনি দিলেন স্বামী - দৈনিক দেশেরপত্র - মানবতার কল্যাণে সত্যের প্রক...

ভালোবাসার অনন্য দৃষ্টান্ত: স্ত্রীর জীবন বাঁচাতে নিজের কিডনি দিলেন স্বামী

April 16, 2026 09:38:20 PM   অনলাইন ডেস্ক
ভালোবাসার অনন্য দৃষ্টান্ত: স্ত্রীর জীবন বাঁচাতে নিজের কিডনি দিলেন স্বামী

ভালোবাসা যে শুধু কথায় নয়, প্রয়োজনে ত্যাগের মধ্য দিয়েও প্রমাণিত হয়—তারই এক জীবন্ত উদাহরণ গড়েছেন শরীয়তপুরের জসিম উদ্দিন। অসুস্থ স্ত্রীর জীবন বাঁচাতে নিজের একটি কিডনি দান করে তিনি দেখিয়েছেন নিঃস্বার্থ ভালোবাসার বিরল নজির।

শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলার কুচাইপট্টি ইউনিয়নের বাসিন্দা মিনারা বেগম দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ রক্তচাপসহ নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। পরবর্তীতে চিকিৎসকদের পরীক্ষা-নিরীক্ষায় জানা যায়, তার দুটি কিডনিই বিকল হয়ে গেছে। একই সঙ্গে তার পেটে একটি টিউমারও ধরা পড়ে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।

ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার মাধ্যমে টিউমারের সমস্যা দূর করা সম্ভব হলেও কিডনি প্রতিস্থাপন ছাড়া তার সুস্থ হওয়ার আর কোনো উপায় ছিল না। কিন্তু প্রয়োজনীয় অর্থ ও উপযুক্ত ডোনারের অভাবে পরিবারটি চরম অনিশ্চয়তায় পড়ে যায়।

প্রথমে মিনারার মা কিডনি দিতে আগ্রহ দেখালেও শারীরিক কারণে তা সম্ভব হয়নি। এমন কঠিন মুহূর্তে সামনে এগিয়ে আসেন স্বামী জসিম উদ্দিন। স্ত্রীর জীবন বাঁচাতে নিজের কিডনি দান করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

প্রয়োজনীয় সকল পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে গত ৫ মার্চ ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে সফলভাবে কিডনি প্রতিস্থাপন সম্পন্ন হয়। বর্তমানে মিনারা ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন এবং চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার চেষ্টা করছেন।

মিনারা বেগম জানান, অসুস্থতার সময় তারা চরম দুশ্চিন্তার মধ্যে ছিলেন। স্বামীর এই সিদ্ধান্তে তিনি প্রথমে রাজি ছিলেন না, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তার আত্মত্যাগই তাকে নতুন জীবন দিয়েছে।

অন্যদিকে জসিম উদ্দিন বলেন, স্ত্রীর এমন অবস্থায় তিনি দিশেহারা হয়ে পড়েছিলেন। পরে সিদ্ধান্ত নেন—বাঁচলে একসঙ্গে বাঁচবেন, আর না হলে একসঙ্গেই সবকিছু মোকাবিলা করবেন। তার কাছে স্ত্রীর সুস্থতা সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

২০০৭ সালে বিয়ে হওয়া এই দম্পতির একটি সন্তান রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে জসিম ঢাকায় চাকরি করে সংসার চালিয়ে আসছেন।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী এই ঘটনাকে ভালোবাসা, ত্যাগ ও মানবিকতার এক অনুকরণীয় উদাহরণ হিসেবে দেখছেন। অনেকের মতে, এমন ঘটনা সমাজে ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দেয় এবং মানুষের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধকে আরও শক্তিশালী করে।