Date: May 07, 2026

দৈনিক দেশেরপত্র

collapse
...
Home / লাইফস্টাইল / বিয়ে না করলে বাড়তে পারে ক্যানসারের ঝুঁকি, বলছে গবেষণা - দৈনিক দেশেরপত্র - মানবতার কল্যাণে সত্যের প্রকাশ

বিয়ে না করলে বাড়তে পারে ক্যানসারের ঝুঁকি, বলছে গবেষণা

May 07, 2026 11:49:11 AM   অনলাইন ডেস্ক
বিয়ে না করলে বাড়তে পারে ক্যানসারের ঝুঁকি, বলছে গবেষণা

বিয়ে শুধুই দুটি মানুষের সামাজিক বন্ধন নয়, এটি মানুষের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের সঙ্গেও গভীরভাবে সম্পর্কিত হতে পারে-এমনই ইঙ্গিত দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন এক গবেষণা। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা কখনো বিয়ে করেননি, তাদের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি। বিশেষ করে ধূমপান ও সংক্রমণজনিত ক্যানসারের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরও স্পষ্টভাবে দেখা গেছে। তবে গবেষকরা বলছেন, এর অর্থ এই নয় যে বিয়ে ক্যানসারের প্রতিষেধক; বরং জীবনযাপন ও স্বাস্থ্যসচেতনতার সঙ্গে এর সম্পর্ক থাকতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা দেশটির ১২টি অঙ্গরাজ্যের ৪০ লক্ষেরও বেশি মানুষের স্বাস্থ্যতথ্য বিশ্লেষণ করে এই গবেষণা পরিচালনা করেন। বিশাল এই তথ্যভান্ডার বিশ্লেষণ করে তারা দেখতে পান, বিবাহিত ব্যক্তিদের তুলনায় অবিবাহিতদের মধ্যে বিভিন্ন প্রধান ক্যানসারের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

গবেষণার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অবিবাহিত পুরুষদের ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বিবাহিত পুরুষদের তুলনায় প্রায় ৭০ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে নারীদের ক্ষেত্রে এই ব্যবধান আরও বেশি উদ্বেগজনক। অবিবাহিত নারীদের ক্যানসারের ঝুঁকি বিবাহিত নারীদের তুলনায় প্রায় ৮৫ শতাংশ পর্যন্ত বেশি বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।

গবেষকরা বিশেষভাবে লক্ষ্য করেছেন, ধূমপান বা সংক্রমণের সঙ্গে সম্পর্কিত ক্যানসারের ক্ষেত্রে এই পার্থক্য সবচেয়ে বেশি। উদাহরণ হিসেবে বলা হয়েছে, অবিবাহিত পুরুষদের মধ্যে মলদ্বারের ক্যানসারের হার বিবাহিতদের তুলনায় প্রায় পাঁচ গুণ বেশি। একইভাবে অবিবাহিত নারীদের মধ্যে জরায়ুমুখের ক্যানসারের হার প্রায় তিন গুণ বেশি পাওয়া গেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পেছনে সামাজিক ও আচরণগত বেশ কিছু কারণ কাজ করতে পারে। বিয়ের পর অনেক মানুষ তুলনামূলকভাবে নিয়মিত জীবনযাপন করেন। তাদের খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আসে, ধূমপান বা অতিরিক্ত মদ্যপানের প্রবণতা কমে এবং স্বাস্থ্য পরীক্ষা বা চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার প্রবণতা বাড়ে। পাশাপাশি জীবনসঙ্গীর মানসিক সমর্থনও স্বাস্থ্যসচেতনতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

গবেষকরা আরও মনে করেন, অবিবাহিতদের মধ্যে একাকীত্ব, মানসিক চাপ কিংবা অনিয়মিত জীবনযাপন তুলনামূলক বেশি দেখা যায়, যা দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এসব বিষয় ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ানোর পেছনে পরোক্ষভাবে ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে গবেষণাটির সঙ্গে যুক্ত বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এই ফলাফলকে সরাসরি কারণ-ফল সম্পর্ক হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। অর্থাৎ বিয়ে করলেই কেউ ক্যানসারমুক্ত থাকবেন—এমন ধারণা ভুল। বরং গবেষণাটি দেখাচ্ছে, সামাজিক সম্পর্ক, জীবনযাত্রার ধরন এবং স্বাস্থ্যসচেতনতা মানুষের দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতার সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত।

গবেষকরা পরামর্শ দিয়েছেন, যারা অবিবাহিত, তাদের স্বাস্থ্য নিয়ে আরও বেশি সচেতন হওয়া জরুরি। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, শরীরচর্চা এবং মানসিক সুস্থতা বজায় রাখার মাধ্যমে অনেক স্বাস্থ্যঝুঁকি কমিয়ে আনা সম্ভব।

এই গবেষণা নতুন করে মনে করিয়ে দিচ্ছে, মানুষের সামাজিক জীবন, সম্পর্ক এবং দৈনন্দিন অভ্যাস শুধু মানসিক স্বস্তিই নয়, শারীরিক সুস্থতার ক্ষেত্রেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।