


ফেনী প্রতিনিধি:
বাংলাদেশকে নিয়ে বর্তমানে আন্তর্জাতিক মহলে গভীর ষড়যন্ত্র চলছে এবং দেশের অভ্যন্তরীণ অনৈক্যের সুযোগ নিয়ে সাম্রাজ্যবাদীরা এই ভূখণ্ড দখলের নীল নকশা করছে বলে সতর্ক করেছেন হেযবুত তওহীদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন। তিনি বলেন, বিদেশি শক্তিরা যখন কোনো জনপদ আক্রমণ করে, তখন তারা কে কোন দল বা মতের তা দেখে না। আজ আমরা যদি ঐক্যবদ্ধ হতে না পারি, তবে আমাদের অস্তিত্ব রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে।
শনিবার (১৬ মে) সকাল ১০টায় ফেনী জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে জেলা হেযবুত তওহীদ আয়োজিত ‘বাংলাদেশের সংকট মোকাবিলায় আমাদের করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভা, ঈদ পুনর্মিলনী ও কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে নিজাম উদ্দিন দেশের বর্তমান সংকটের মূলে ব্রিটিশদের রেখে যাওয়া ঘুণে ধরা সিস্টেমকে দায়ী করেন। তিনি বলেন, “স্বাধীনতার ৫৩ বছর পেরিয়ে গেলেও আমরা আজও ব্রিটিশদের প্রবর্তিত শাসন ব্যবস্থা ও বিচার পদ্ধতি আঁকড়ে ধরে আছি। আমাদের শিক্ষা, অর্থনীতি, চিকিৎসা ও রাজনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিটি সেক্টর আজ চরম সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে ব্রিটিশদের তৈরি এই সুদভিত্তিক অর্থনীতি সাধারণ মানুষকে শোষণের জাঁতাকলে পিষ্ট করছে। এই গতানুগতিক সিস্টেম দিয়ে কোনোদিনও জাতির প্রকৃত মুক্তি সম্ভব নয়।”
তিনি আরও বলেন, “আন্তর্জাতিক মহলে পরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশকে একটি উগ্রবাদী ও দুর্নীতিগ্রস্ত রাষ্ট্র হিসেবে ব্র্যান্ডিং করা হচ্ছে। এর উদ্দেশ্য হলো এ দেশে বিদেশি হস্তক্ষেপের পথ প্রশস্ত করা। আর দেশের ভেতরে এক শ্রেণির স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী সাধারণ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিকে পুঁজি করে উগ্রবাদ ও মব সন্ত্রাসের জন্ম দিচ্ছে। তারা গুজব ছড়িয়ে সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে, যা মূলত আমাদের জাতীয় সার্বভৌমত্বকে দুর্বল করার একটি বড় ষড়যন্ত্র।”
উগ্রবাদীদের অপতৎপরতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে নিজাম উদ্দিন বলেন, “আজ অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। একটি চিহ্নিত গোষ্ঠী মসজিদের মিম্বর ও ওয়াজ মাহফিল ব্যবহার করে আমাদের নামে ডাহা মিথ্যা হ্যান্ডবিল বিলি করছে। তারা নিজেদের পরিচয় গোপন করে ‘তওহীদী জনতা’, ‘সচেতন মুসলিম’ ইত্যাদি নামে ব্যানার তৈরি করে সাধারণ মানুষকে আইন হাতে তুলে নিতে প্ররোচিত করছে। তারা কেবল গুজবই ছড়াচ্ছে না, বরং প্রকাশ্যে জনসভা থেকে হেযবুত তওহীদের কর্মীদের হত্যার ও ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে।”
তিনি প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, “আমরা বারবার প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে এই ভয়াবহ হুমকির বিষয়ে অবহিত করছি, কিন্তু দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। অপরাধীরা প্রকাশ্যে হুমকি দিয়ে বুক ফুলিয়ে ঘুরছে, অথচ তাদের জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজনও মনে করছে না কেউ। এই নিষ্ক্রিয়তার কারণেই উগ্রবাদীরা আরও সাহসী হয়ে উঠছে। অতীতে এই অপশক্তি হামলা চালিয়ে হেযবুত তওহীদের পাঁচজন সদস্যকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে এবং বহু সম্পদ ধ্বংস করেছে। এখনই যদি এদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া না হয়, তবে পুরো দেশ একসময় মব সন্ত্রাসের অভয়ারণ্যে পরিণত হবে।”
নিজাম উদ্দিন ফেনীবাসীর উদ্দেশে বলেন, “মানুষের তৈরি করা জরাজীর্ণ কোনো ব্যবস্থা দিয়ে শান্তি আসবে না। যাবতীয় অন্যায়, অবিচার ও অশান্তি থেকে মুক্তির একমাত্র পথ হলো আল্লাহর দেওয়া তওহীদ ভিত্তিক বিধান ও সঠিক পথ অনুসরণ করা। স্রষ্টা প্রদত্ত জীবন বিধানই পারে সব ভেদাভেদ দূর করে একটি শান্তিময় সমাজ গড়তে। উগ্রবাদ ও ধর্মব্যবসায়ীদের রুখতে হলে আমাদের আদর্শিক গণজাগরণ সৃষ্টি করতে হবে।”
ফেনী জেলা হেযবুত তওহীদের সভাপতি আব্দুল ওয়াহেদ মামুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় আমির মাহাবুর আলম। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় গণমাধ্যম ও যোগাযোগ সম্পাদক শারমিন সুলতানা, ফেনী জেলা সাধারণ সম্পাদক নূরুল আলম, ফেনী সদর থানা সভাপতি একরামুল হক ভূঁইয়া, ফুলগাজী থানা সভাপতি মঞ্জুরুল আলম এবং ছাগলনাইয়া থানা সভাপতি ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া।