


যশোরের শার্শা উপজেলার উলশী এলাকায় দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা ও পানি নিষ্কাশন সমস্যার সমাধানে খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন তারেক রহমান। ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই খাল পুনঃখননের মাধ্যমে স্থানীয় কৃষি ও পরিবেশ ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তনের আশা করা হচ্ছে।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে প্রায় চার কিলোমিটার দীর্ঘ এই খাল পুনঃখনন প্রকল্পের উদ্বোধন করেন তিনি। খালটি দীর্ঘদিন অব্যবহৃত ও ভরাট হয়ে যাওয়ায় এলাকায় পানি নিষ্কাশনে ব্যাপক সমস্যা সৃষ্টি হয়েছিল, যা এখন সমাধানের পথে এগোচ্ছে।
অনুষ্ঠানে খালপাড়ে ফলক উন্মোচনের মাধ্যমে প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পানি সম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী অ্যানি, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহেদ আলম, পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা।
বক্তারা জানান, উলশী খাল পুনঃখননের মাধ্যমে এলাকার পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নত হবে, কৃষিজমি জলাবদ্ধতা থেকে রক্ষা পাবে এবং কৃষি উৎপাদন বাড়বে। দীর্ঘদিনের সমস্যার স্থায়ী সমাধানের পথে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এর আগে সকালে প্রধানমন্ত্রী যশোর বিমানবন্দরে পৌঁছান এবং সেখানে তাকে অভ্যর্থনা জানান জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম, সংসদ সদস্য মাওলানা আজিজুর রহমানসহ ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা।
সরকার গঠনের পর এটি ছিল তার প্রথম যশোর সফর। সফরসূচি অনুযায়ী তিনি খাল পুনঃখনন ছাড়াও যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৫০০ শয্যার প্রকল্প উদ্বোধন এবং ঈদগাহ ময়দানে জনসভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। দিনশেষে তিনি সন্ধ্যায় ঢাকার উদ্দেশে যশোর ত্যাগ করবেন।
উল্লেখ্য, ১৯৭৬ সালের ১ নভেম্বর এই উলশী-যদুনাথপুর খাল স্বেচ্ছাশ্রমে খনন করেছিলেন তৎকালীন রাষ্ট্রনায়ক জিয়াউর রহমান, যা পরবর্তীতে ‘জিয়া খাল’ নামে পরিচিতি পায়। সেই ঐতিহাসিক উদ্যোগের জায়গাতেই নতুন করে পুনঃখনন কার্যক্রম শুরু হলো।