


ফেনী প্রতিনিধি:
ফেনীর শর্শদীতে সৌদি আরব প্রবাসীর স্ত্রী রীনা আক্তার (৪৪) হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এই ঘটনায় জড়িত মূল আসামি রাজমিস্ত্রি সাইফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে নিহতের লুটে নেওয়া স্বর্ণালংকারও উদ্ধার করা হয়েছে।
গত ১২ মে ফেনী সদর উপজেলার পশ্চিম জোয়ারকাছাড় এলাকায় এই হত্যাকাণ্ডটি ঘটে। রীনা আক্তারকে তার নির্মাণাধীন ভবনের একটি কক্ষে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছিল। এরপর লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে তা ভবনের পাশে রাখা বালুর নিচে চাপা দেওয়া হয়। এই ঘটনায় নিহতের ছেলে মহরম আলী বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছিলেন।
পিবিআই জানিয়েছে, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে আসামিকে শনাক্ত করার পর চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামী এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সাইফুল ইসলাম শর্শদী ইউনিয়নের বাসিন্দা। গ্রেপ্তারের পর তিনি হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, কিস্তির টাকা পরিশোধ করার জন্য তিনি এই হত্যার পরিকল্পনা করেছিলেন।
ঘটনার দিন রীনা আক্তার যখন তার নির্মাণাধীন ভবনের দেয়ালে পানি দিতে গিয়েছিলেন, তখন সাইফুল তার কানের দুল ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন এবং তাকে গলা চেপে হত্যা করেন। পরে তিনি ওই দুলগুলো একটি স্বর্ণের দোকানে ১৫ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি করে দেন। পিবিআই ওই দোকান থেকে দুলগুলো উদ্ধার করেছে। এই অপরাধের ধরণ দেখে বোঝা যায় যে এটি ছিল একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।
বর্তমানে আসামিকে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। মামলাটি তদন্ত করছেন পিবিআই ফেনী জেলার পুলিশ পরিদর্শক কাউসার আলম ভূঁইয়া। মূলত দ্রুত টাকা জোগাড় করার জন্যই সাইফুল এই পথ বেছে নিয়েছিলেন বলে পুলিশকে জানিয়েছেন।