


রাজধানী ঢাকাকে বসবাসযোগ্য, পরিবেশবান্ধব ও সবুজ নগরীতে রূপান্তর করতে ১২ দফা সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেছে সরকার। বৃক্ষরোপণ, বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও আধুনিক পরিবহন ব্যবস্থার মাধ্যমে ঢাকার পরিবেশ উন্নয়নে জোর দেওয়া হচ্ছে।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালাম-এর এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে এই পরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
প্রধানমন্ত্রী জানান, ঢাকা-কে ‘ক্লিন ও গ্রিন সিটি’ হিসেবে গড়ে তুলতে স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন-এর মাধ্যমে বহুমুখী কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। নাগরিক সচেতনতা বাড়াতে নিয়মিত প্রচারণা, পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং মশক নিধন কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
শহরের বিভিন্ন সড়কের মিডিয়ান, উন্মুক্ত স্থান ও সড়কদ্বীপে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বিশেষ করে মিয়াওয়াকি পদ্ধতিতে নগর বনায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় পাঁচ লাখ গাছ লাগানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এছাড়া মেট্রোরেলের নিচের খালি জায়গা ও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নিচে সবুজায়নের পরিকল্পনাও রয়েছে, যা নগরীর সৌন্দর্য বৃদ্ধির পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সহায়ক হবে।
পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণে পরিবেশ অধিদপ্তর অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করছে। বায়ুদূষণ কমাতে আধুনিক গণপরিবহন চালুর উদ্যোগের অংশ হিসেবে ২৫০টি ইলেকট্রিক বাস চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কালো ধোঁয়া নির্গমনকারী যানবাহন ও নির্মাণকাজ থেকে সৃষ্ট দূষণের বিরুদ্ধে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে।
ঢাকার আশপাশে অবৈধ ইটভাটা বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং সাভার উপজেলা-কে ‘ডিগ্রেডেড এয়ারশেড’ ঘোষণা করে সেখানে দূষণকারী কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।
নদী ও খাল রক্ষায় তরল বর্জ্য নির্গমনকারী শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ইটিপি স্থাপন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ২৪৮টি প্রতিষ্ঠানে ইটিপি স্থাপন করা হয়েছে এবং সেগুলোর কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। বুড়িগঙ্গা নদী, শীতলক্ষ্যা নদী, তুরাগ নদী ও বালু নদী-এর দূষণের উৎস চিহ্নিত করে তা নিয়ন্ত্রণে কাজ চলছে।
এছাড়া বন অধিদপ্তরের উদ্যোগে বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে রাস্তার মিডিয়ান, খালের পাড় ও খালি জায়গায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ৪১ হাজারের বেশি বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগানো হয়েছে এবং আগামীতে আরও ব্যাপক বনায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
সরকারের এই বহুমাত্রিক উদ্যোগের লক্ষ্য হলো ঢাকার পরিবেশগত ভারসাম্য ফিরিয়ে আনা, দূষণ কমানো এবং নাগরিকদের জন্য একটি সুস্থ ও টেকসই নগর পরিবেশ নিশ্চিত করা।