


মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাব পড়ে দেশে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। নতুন সরবরাহ কমে যাওয়ায় মজুদ দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। এই পরিস্থিতিতে জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছে, যার মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আংশিক অনলাইন ক্লাস চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।
সূত্র জানায়, দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্লাস-পরীক্ষা পুরোপুরি বন্ধ না করে আংশিকভাবে অনলাইন ক্লাস চালুর বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। সম্প্রতি রমজান ও ঈদুল ফিতরের দীর্ঘ ছুটি শেষে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খুলেছে। আবার নতুন করে ছুটি ঘোষণা করলে শিক্ষা কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ কারণে বিকল্প হিসেবে অনলাইন ক্লাস চালুর দিকে ঝুঁকছে সরকার। এতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা চালু রাখার পাশাপাশি জ্বালানি ব্যবহারও কিছুটা কমানো সম্ভব হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে শুধু শিক্ষা খাত নয়, সরকারি অফিসগুলোর ক্ষেত্রেও কিছু পরিবর্তনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। সাপ্তাহিক ছুটি বাড়ানো, ওয়ার্ক ফ্রম হোম চালু করা কিংবা অফিস সময়সূচি পরিবর্তনের মতো বিষয়গুলো নিয়েও আলোচনা চলছে। তবে এসব বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে ইতিমধ্যে সব সরকারি সংস্থাকে নিজস্ব প্রস্তাব তৈরি করতে বলা হয়েছে। এসব প্রস্তাব আগামী মন্ত্রিসভা বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ১১ দফা নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। এতে সকালবেলায় বাধ্যতামূলকভাবে ৪০ মিনিট অফিসে অবস্থান, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয় এবং অফিস কক্ষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ সংক্রান্ত চিঠি বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) কাছে পাঠানো হয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় সরকার যে সাশ্রয়ী পদক্ষেপের দিকে ঝুঁকছে, তা সামগ্রিকভাবে দেশের অর্থনীতি ও জনজীবনে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।