


টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা গিয়াস উদ্দিন বাবুর ভাড়া বাসা থেকে সুচনা (১৮) নামে এক নববধূর রহস্যজনক মরদেহ উদ্ধারকে ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের দাবি, সুচনাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তবে অভিযুক্ত চেয়ারম্যান বলছেন, এটি আত্মহত্যা। ঘটনাটি নিয়ে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা-সমালোচনা।
রোববার (১৭ মে) সন্ধ্যায় পৌর শহরের কলেজপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
নিহত সুচনার বাবা সোরহাব আলী অভিযোগ করে বলেন, “আমার মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে।” তিনি ঘাটাইল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে ছরোয়ার হোসেনের ছেলে শাওয়াল (২৫), ইউপি চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন বাবুসহ চারজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক মাস আগে মধুপুর উপজেলার আলোকদিয়া গ্রামের আলী হোসেনের ছেলে আলম মিয়ার সঙ্গে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় সুচনার। বিয়ের পর সংসার স্বাভাবিকভাবেই চলছিল। তবে এর মধ্যেই পুরোনো পরিচিত যুবক শাওয়াল বিভিন্নভাবে সুচনাকে বিরক্ত ও প্ররোচিত করতে থাকে বলে অভিযোগ পরিবারের।
অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ১৪ মে শাওয়াল নানা প্রলোভন দেখিয়ে সুচনাকে স্বামীর বাড়ি থেকে বের করে নিয়ে যায়। এরপর থেকে তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে রোববার চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন বাবু মোবাইল ফোনে সুচনার পরিবারকে জানান, সুচনা ও শাওয়াল তার হেফাজতে রয়েছে এবং বিষয়টি সমাধানের জন্য তার ভাড়া বাসায় আসতে বলেন।
কিন্তু কিছুক্ষণ পরই খবর আসে, সুচনাকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়েছে। সেখানে গিয়ে পরিবার তাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পায়। চিকিৎসকদের দাবি, হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছিল।
সুচনার বাবা অভিযোগ করে বলেন, “আমার মেয়েকে স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদ করিয়ে পুনরায় বিয়ের জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছিল। রাজি না হওয়ায় তাকে হত্যা করা হয়েছে।”
অন্যদিকে চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন বাবু দাবি করেন, “আমি বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করছিলাম। সন্ধ্যায় দুই পক্ষকে নিয়ে বসার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই সুচনা একটি কক্ষে আত্মহত্যা করে। পরে দরজা ভেঙে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।”
তিনি আরও বলেন, ঘটনার সময় তিনি ও তার স্ত্রী বাসায় ছিলেন না। সেখানে সুচনা, শাওয়াল এবং তাদের স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন।
ঘাটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোকছেদুর রহমান বলেন, “মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এটি আত্মহত্যা নাকি হত্যাকাণ্ড, তা তদন্ত ও পোস্টমর্টেম রিপোর্ট পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।”