Date: May 18, 2026

দৈনিক দেশেরপত্র

collapse
...
Home / সারাদেশ / রংপুর / গাইবান্ধায় সহায়তার নামে কোটি টাকার প্রতারণা, সর্বস্বান্ত হতদরিদ্র মানুষ - দৈনিক দেশেরপত্র - মানবতার কল্যাণে সত্যের প্র...

গাইবান্ধায় সহায়তার নামে কোটি টাকার প্রতারণা, সর্বস্বান্ত হতদরিদ্র মানুষ

May 18, 2026 07:50:52 PM   উপজেলা প্রতিনিধি
গাইবান্ধায় সহায়তার নামে কোটি টাকার প্রতারণা, সর্বস্বান্ত হতদরিদ্র মানুষ

গাইবান্ধায় ঋণ ও নানা সহায়তার নামে একের পর এক প্রতারণার ঘটনা ঘটেছে। গ্রামের হতদরিদ্র মানুষদের লক্ষ্য করে এসব প্রতারক চক্র সক্রিয় হয়েছে। সম্প্রতি ‘আল আনসার ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ’ নামের একটি কথিত সামাজিক সংগঠনের বিরুদ্ধে প্রায় দেড় কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিনামূল্যে পাকা ঘর, নলকূপ ও গবাদিপশু দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এই টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ থেকে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক মাওলানা শহিদুল ইসলাম গাইবান্ধা সদর, পলাশবাড়ী ও ফুলছড়ি উপজেলার সহস্রাধিক পরিবারের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করে পালিয়েছেন। শুরুতে সামান্য টাকায় কয়েকটি নলকূপ বসিয়ে তিনি মানুষের আস্থা অর্জন করেন। পরে পাকা ঘর ও গবাদিপশু দেওয়ার কথা বলে পরিবার প্রতি ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা করে সংগ্রহ করা হয়। অনেক দরিদ্র মানুষ সুদে ঋণ নিয়ে বা নিজেদের পালিত পশু বিক্রি করে এই টাকা দিয়েছেন।

সরেজমিনে সদর উপজেলার মধ্য নারায়ণপুর এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, আটটি ঘরের চাল বসিয়ে কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, এই প্রতারণার সাথে একটি মাদরাসার অধ্যক্ষ আল আমিনের সম্পৃক্ততা ছিল। তবে আল আমিন দাবি করেছেন, তিনি নিজেও প্রতারণার শিকার হয়েছেন এবং টাকা উদ্ধারের জন্য আদালতে মামলা করেছেন। তার মাধ্যমে ৩৬৬ জন ব্যক্তির প্রায় ৭৩ লাখ টাকা শহিদুল ইসলামের হাতে গেছে বলে তিনি জানান।

অভিযুক্ত শহিদুল ইসলাম মুঠোফোনে জানান, তিনি মানুষের উপকার করছেন এবং তার নাম ভাঙিয়ে অন্য কেউ প্রতারণা করতে পারে। এই কথা বলেই তিনি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

এর আগে গত মে মাসে ‘তিশা ফাউন্ডেশন’ নামে একটি কথিত এনজিও সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার কথা বলে কোটি টাকা নিয়ে উধাও হয়ে গেছে। মাত্র সাত দিনে এই অর্থ হাতিয়ে নিয়ে এনজিওটির পরিচালক জসিম মিয়া সপরিবারে পালিয়েছেন। এই ধরণের প্রতারণার পুনরাবৃত্তিতে সাধারণ মানুষের মাঝে আতঙ্ক ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, প্রতারক চক্রকে শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার কাজ চলছে। এই বিষয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে।

গাইবান্ধা নাগরিক মঞ্চের আহ্বায়ক সিরাজুল ইসলাম বাবু বলেন, এই ধরণের প্রতারণা ঠেকাতে পুলিশের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতাও খুব জরুরি।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) শরীফ আল রাজিব সাধারণ মানুষকে এই ধরণের প্রলোভনের ফাঁদ থেকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। প্রশাসনিক নজরদারি বৃদ্ধি না করলে অসহায় মানুষেরা বারবার এমন ক্ষতির মুখে পড়বেন বলে মনে করেন সচেতন মহল।