


গাজীপুর সংবাদদাতা:
গাজীপুরে ‘আজকের পত্রিকা’র সাংবাদিক আসাদুজ্জামানের ওপর পরিকল্পিত হামলা, ভিডিও ধারণ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুৎসা রটানোর অভিযোগে খাদিজা খাতুন নামের এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার ভোর রাতে বোর্ডবাজার ভাড়াবাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তারের পর আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
সদর থানার অফিসার ইনচার্জ আমিনুল ইসলাম জানান, গত ১১ মার্চ সাংবাদিক আসাদুজ্জামান পেশাগত কাজে সকাল ৯টা থেকেই ঢাকায় ছিলেন। অথচ ১১ মার্চের সকাল ১১টার একটি অনৈতিক ঘটনার কথা বলে ২৪ মার্চ খাদিজা খাতুন ওই সাংবাদিকের ওপর হামলা চালায় এবং তার সহযোগিরা ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়, যার উদ্দেশ্য ছিল ওই সাংবাদিকের সামাজিক ও পেশাদার মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করা।
এই ঘটনায় সাংবাদিক আসাদ বাদী হয়ে ৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে সদর মেট্রো থানায় মামলা দায়ের করেন। অন্য আসামিরা হলেন, হান্নান মোল্লা (৫১), মো. লতিফ সরকার টুটুল (৫০) ও নজরুল ইসলাম আজহার (৫২)।
সাংবাদিক আসাদ জানান, গত ১১ মার্চ তিনি দিনভর ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। ওইদিন তিনি সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও সচিবালয়ে দুজন সচিবের সাথে সাক্ষাৎ করেন। বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবে সাংবাদিক ইউনিয়নের ইফতার মাহফিলেও অংশ নেন তিনি।
আসাদ বলেন, "ঐদিনের প্রতিটি স্থানের সিসিটিভি ফুটেজ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ছবি পর্যালোচনা করলে স্পষ্ট হয় যে আমি গাজীপুরে ছিলাম না। অথচ সম্পূর্ণ কাল্পনিক নাটক সাজিয়ে আমার ওপর এই হামলা করা হয়েছে।" তিনি আরও অভিযোগ করেন, ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর একটি কুচক্রী মহল আওয়ামী স্বৈরাচারের দোসর হিসেবে কাজ করছে এবং বিগত সরকারের মন্ত্রী ও সাবেক মেয়ল জাহাঙ্গীরের দুর্নীতি ও অপশাসনের বিরুদ্ধে নিউজ করায় আমাকে টার্গেট করে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে।
এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার প্রতিবাদে গত ২৫ মার্চ গাজীপুরের বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন ও বিচার দাবি করে। তবে মামলা করার পর থেকে আসামিদের অব্যাহত হুমকি ও পাল্টা মিথ্যা মামলার ভয়ে বর্তমানে ওই সাংবাদিক নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই উজ্জল জানান, মামলার প্রধান অভিযুক্ত নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বাকি আসামিদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।