


সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এপ্রিল মাসেও দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের দাম আগের অবস্থানেই বহাল রাখা হয়েছে। ডিজেল, অকটেন, পেট্রোল ও কেরোসিনের দাম আগের মতোই লিটারপ্রতি যথাক্রমে ১০০, ১২০, ১১৬ ও ১১২ টাকা। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ও আন্তর্জাতিক বাজারের উত্থান-পতন সত্ত্বেও এই স্থিতিশীলতা বজায় রাখা হয়েছে, যা ভোক্তাদের জন্য একটি শিথিলতার বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ‘জ্বালানি তেলের স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ নির্দেশিকা (সংশোধিত)’ অনুযায়ী যথাযথ কর্তৃপক্ষ এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। ফেব্রুয়ারি মাসে সরকার ডিজেল ও অকটেনের দাম ২ টাকা এবং পেট্রোল ও কেরোসিনের দাম ২ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করেছিল, যা মার্চে অপরিবর্তিত ছিল এবং এপ্রিলেও সেটি বহাল থাকছে।
২০১৪ সালের মার্চ থেকে সরকার আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে প্রতি মাসে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় শুরু করেছে। প্রথম দফায় ডিজেল ও কেরোসিনের দাম ৭৫ পয়সা এবং পেট্রোল ও অকটেনের দাম যথাক্রমে ৩ ও ৪ টাকা কমানো হয়েছিল।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে দেশের বিভিন্ন স্থানে জ্বালানি সরবরাহ ও মজুদ নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ থাকলেও সরকার এই অবস্থায় দাম না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত পুনর্ব্যক্ত করেছে। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী জানিয়েছেন, সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
সোমবার সংসদে জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু উল্লেখ করেন, দেশে জ্বালানির কোনো ঘাটতি নেই; বরং গত বছরের তুলনায় সরবরাহ ১০ থেকে ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি আরও বলেন, কিছু স্থানে সংকটের প্রধান কারণ হলো 'প্রয়োজনের চেয়ে বেশি কেনার প্রবণতা' এবং 'জ্বালানি মজুদের মানসিকতা'।
মন্ত্রী বলেন, ডিজেলের প্রকৃত ব্যয় লিটারপ্রতি ১৯৮ টাকা হলেও বিক্রয়মূল্য রাখা হয়েছে ১০০ টাকায়, আর অকটেনের প্রকৃত ব্যয় ১৫০.৭২ টাকা হলেও বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়। আন্তর্জাতিক বাজারে দর বৃদ্ধির কারণে মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত ডিজেল ও অকটেনে মোট ১৬,০৪৫ কোটি টাকা ভর্তুকি লাগতে পারে।
এই প্রজ্ঞাপনের ফলে এপ্রিল মাসে ভোক্তারা পূর্বের মতোই তেল কিনতে পারবেন, যা বাজারে স্থিতিশীলতা এবং ক্রেতাদের জন্য স্বস্তি এনে দিয়েছে।