


ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় নিখোঁজের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই চার বছর বয়সী এক শিশুর ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার ধর্মগড় ইউনিয়নের ভরনিয়া আনসারডাঙ্গী এলাকায় একটি ভুট্টা ক্ষেত থেকে লাশটি উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে মুরসালিন নামের ১৬ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রকে আটক করা হয়েছে।
নিহত শিশুর নাম লামিয়া। সে ওই গ্রামের শফিকুল ইসলাম শফির মেয়ে ছিল। স্থানীয়রা জানান, বুধবার বিকেল ৫টার দিকে লামিয়া হঠাৎ নিখোঁজ হয়েছিল। পরিবারের সদস্যরা এলাকায় মাইকিং করার পাশাপাশি বিভিন্ন জায়গায় তার খোঁজ শুরু করেছিলেন। তারা জানান, একই গ্রামের শরিফ উদ্দিনের ছেলে মুরসালিন প্রায়ই শিশুটিকে নিয়ে খেলাধুলা করত। ঘটনার দিন বিকেলেও মুরসালিনের সাথে লামিয়াকে ঘুরতে দেখা গিয়েছিল। কিন্তু সন্ধ্যা হওয়ার পরও শিশুটি বাড়ি না ফেরায় পরিবারের মনে সন্দেহ তৈরি হয়েছিল।
সারা রাত খুঁজে না পাওয়ায় বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয়রা মুরসালিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। একপর্যায়ে সে শিশুটিকে হত্যা করে ভুট্টা ক্ষেতে ফেলে রাখার কথা স্বীকার করে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে। এই দৃশ্য দেখার পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে এবং উত্তেজিত জনতা অভিযুক্তের বাড়িতে ভাঙচুর চালায়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
রাণীশংকৈল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমানুল্লাহ আল বারী জানান, শিশুটির লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মুরসালিন স্বীকার করেছে যে, সে শিশুটিকে ধর্ষণের পর নিজেকে বাঁচাতে হত্যা করেছিল। এই জঘন্য অপরাধের ধরণ এবং অন্যান্য বিষয়গুলো খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছিল।