


চট্টগ্রামে মাত্র ৫৩ দিনের ব্যবধানে চারবার জেলা প্রশাসক (ডিসি) পরিবর্তন করা হয়েছে, যা প্রশাসনের অভ্যন্তরে অস্বাভাবিক হিসেবে দেখছে অনেকেই। বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মাঠ প্রশাসন-২ শাখা থেকে প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনে নারায়ণগঞ্জের বর্তমান জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহেদুল ইসলাম মিঞাকে চট্টগ্রামের নতুন ডিসি ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, চট্টগ্রামে যোগদানের মাত্র ২৫ দিনের মাথায় বর্তমান জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলামকে বদলি করা হয়েছে এবং তার জায়গায় ২৫তম বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহেদুল ইসলাম মিঞাকে নতুন জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি ২০২৪ সালের ১৪ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জের ডিসি হিসেবে যোগদান করেছিলেন।
চট্টগ্রামের ডিসি পর্যায়ে এই ঘন ঘন পরিবর্তনের ইতিহাস নতুন নয়। গত বছর ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর ১২ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের প্রথম নারী জেলা প্রশাসক হিসেবে যোগদান করেছিলেন ফরিদা খানম। তবে দুর্নীতির নানা অভিযোগ ওঠার পর এক বছর না পেরোতেই চলতি বছরের ২১ সেপ্টেম্বর এক প্রজ্ঞাপনে তাকে জেলা প্রশাসকের দায়িত্ব থেকে সরানো হয়।
ফরিদা খানমের পর দায়িত্ব পান নওগাঁ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আউয়াল। কিন্তু সরকারি আদেশ জারির পর যোগদানের আগেই তার নিয়োগ বাতিল করা হয়। এরপর ১৫ অক্টোবর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নতুন প্রজ্ঞাপনে তৎকালীন ফেনী জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম চট্টগ্রামের ডিসি হিসেবে নিয়োগ পান এবং ১৯ অক্টোবর তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
নতুন প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, জনস্বার্থে এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। নির্বাচনী প্রেক্ষাপটে মাঠ প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে একের পর এক রদবদলকে প্রশাসন সংশ্লিষ্টরা তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখছেন। এর আগে কয়েক দফায় ডিসি পর্যায়ে পরিবর্তন এনেছে সরকার, যা স্থানীয় প্রশাসনের স্থিতিশীলতা ও প্রশাসনিক ধারাবাহিকতায় প্রশ্ন উত্থাপন করছে।
চট্টগ্রামে এত দ্রুত ডিসি পরিবর্তনের ঘটনা প্রশাসনিক সচেতনদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষত নির্বাচন-ঘনিষ্ঠ সময়ে গুরুত্বপূর্ণ পদে ঘন ঘন পরিবর্তন নীতিগত এবং কার্যকর প্রশাসন পরিচালনার জন্য প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।