


শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে কর্তব্যরত চিকিৎসকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই হামলায় চিকিৎসক ডা. নাসির ইসলাম গুরুতর আহত হয়েছেন। তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
শুক্রবার রাতে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে এই ঘটনাটি ঘটে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শরীয়তপুর পৌরসভার উত্তর বিলাসখান এলাকার বাসিন্দা লাল মিয়া কাজী হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। তার অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. নাসির ইসলাম তাকে ঢাকার জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে রেফার করেন। তবে অ্যাম্বুলেন্সে তোলার আগেই ওই রোগীর মৃত্যু হয়।
রোগীর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্বজনদের সঙ্গে কিছু বহিরাগত ব্যক্তি হাসপাতালে উত্তেজনার সৃষ্টি করে। একপর্যায়ে চিকিৎসকের গাফিলতির অভিযোগ তুলে তারা ডা. নাসির ইসলামের কক্ষে ঢুকে তাকে টেনে-হিঁচড়ে বাইরে নিয়ে আসে এবং মারধর করে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, হামলাকারীরা তাকে কিল-ঘুষি ও লাথি মারলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এতে তার মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় গুরুতর আঘাত লাগে। এই হামলার ধরণ অত্যন্ত নৃশংস ছিল বলে জানা গেছে।
আহত চিকিৎসকের বড় ভাই নজরুল ইসলাম জানান, নাসির ইসলাম মাত্র তিন মাস আগে বিসিএসের মাধ্যমে সরকারি চাকরিতে যোগ দিয়েছিলেন। সেবার মানসিকতা নিয়ে কাজ করতে এসে এমন হামলার শিকার হওয়াকে তিনি অত্যন্ত দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেন। তিনি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. মিতু আক্তার জানান, কর্তব্যরত চিকিৎসকের ওপর হামলার এই ঘটনাটি অনভিপ্রেত। চিকিৎসকের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম জানান, এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে একজনকে আটক করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে বাকি হামলাকারীদের শনাক্ত করার কাজ চলছে এবং আইনি প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। মূলত ভুল বোঝাবুঝি এবং আবেগের বশবর্তী হয়ে এমন হামলার ধরণ তৈরি হয়েছে বলে পুলিশ ধারণা করছে।