


যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের সান ডিয়েগো শহরে একটি মসজিদে ভয়াবহ বন্দুক হামলার ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে পাঁচজনে। নিহতদের মধ্যে তিনজন মুসল্লি ও দুইজন কিশোর সন্দেহভাজন হামলাকারী রয়েছে। স্থানীয় সময় সোমবার দুপুরের আগে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ ও তদন্তকারী সংস্থাগুলো প্রাথমিকভাবে এটিকে ইসলামবিদ্বেষী ঘৃণামূলক হামলা হিসেবে বিবেচনা করছে। হামলার পর মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা জানিয়েছে, সান ডিয়েগোর ক্লেয়ারমন্ট এলাকায় অবস্থিত একটি ইসলামিক সেন্টারে হঠাৎ করেই এ হামলার ঘটনা ঘটে। দুপুরের কিছু আগে মসজিদ প্রাঙ্গণে গুলির শব্দ শোনা গেলে মুহূর্তেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। নামাজ ও ধর্মীয় কার্যক্রমে অংশ নিতে আসা মুসল্লিরা প্রাণ বাঁচাতে ছুটোছুটি শুরু করেন। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য ও জরুরি উদ্ধারকারী দল।
পুলিশ জানায়, মসজিদের বাইরে থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তিনজন প্রাপ্তবয়স্কের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতদের একজন ওই ইসলামিক সেন্টারের নিরাপত্তাকর্মী ছিলেন। কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার সময় তিনি সাহসিকতার সঙ্গে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন এবং আরও বড় ধরনের প্রাণহানি ঠেকাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
সান ডিয়েগো পুলিশের প্রধান স্কট ওয়াহল আল-জাজিরাকে বলেন, নিরাপত্তাকর্মীর দ্রুত পদক্ষেপ ও সাহসী অবস্থানের কারণেই হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়েনি। তিনি ঘটনাটিকে অত্যন্ত মর্মান্তিক উল্লেখ করে বলেন, ধর্মীয় উপাসনালয়ে এ ধরনের হামলা সমাজের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়।
হামলার কিছু সময় পর ঘটনাস্থল থেকে কয়েক ব্লক দূরে একটি গাড়ির ভেতর দুই কিশোর সন্দেহভাজনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। তদন্তকারীদের ধারণা, হামলার পর তারা নিজেরাই নিজেদের গুলি করে আত্মহত্যা করেছে। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া গাড়ির ভেতর ইসলামবিদ্বেষী লেখা, উগ্রপন্থী বিদ্বেষমূলক সামগ্রী এবং একটি আত্মহত্যার নোট পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র।
তদন্তকারীরা বলছেন, হামলাটি পরিকল্পিত হতে পারে এবং এটি মুসলিম সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করেই চালানো হয়েছে। এ কারণে ঘটনাটিকে ঘৃণামূলক অপরাধ হিসেবে তদন্ত করা হচ্ছে। স্থানীয় পুলিশের পাশাপাশি (এফবিআই) যৌথভাবে তদন্তে নেমেছে। সন্দেহভাজনদের পরিবারের বাড়ি থেকেও একটি অস্ত্র জব্দ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এ ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটলো, যখন মুসলিম বিশ্বে পবিত্র হজকে কেন্দ্র করে ধর্মীয় প্রস্তুতি চলছিল। ফলে হামলাটি মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে বাড়তি উদ্বেগ তৈরি করেছে। স্থানীয় মুসল্লিরা বলছেন, উপাসনালয়েও যদি নিরাপত্তা নিশ্চিত না হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের মনে ভয় আরও বাড়বে।
ঘটনার পর ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি এ হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেন। তারা উভয়েই ধর্মীয় বিদ্বেষ ও সহিংসতার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের আহ্বান জানান।
এদিকে স্থানীয় মুসলিম নেতারা দ্রুত নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন। তারা বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিমদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ও হামলার ঘটনা বাড়ছে, যা উদ্বেগজনক।
পুলিশ জানিয়েছে, হামলার পেছনের প্রকৃত উদ্দেশ্য, সন্দেহভাজনদের যোগাযোগ এবং তারা কোনো উগ্রবাদী গোষ্ঠীর সঙ্গে জড়িত ছিল কিনা-এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আরও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব নয় বলেও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।