


দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মতো বরগুনার আমতলী, তালতলী ও পাথরঘাটায় আজ (৪ অক্টোবর) থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন ইলিশ মাছ ধরা, বিক্রি, পরিবহন এবং মজুদ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ইলিশের প্রাচুর্য নিশ্চিত করতে এই নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সরকার। এই সময়ে জেলেদের কঠোরভাবে মাছ ধরা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
আমতলী উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগ জানিয়েছে, আইন অমান্যকারী জেলে, ব্যবসায়ী বা পরিবহনকারীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইন অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গ করলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার মতে, এই নিষেধাজ্ঞার মূল লক্ষ্য ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষা করা। জাতীয় মাছ ইলিশ দেশের অর্থনীতি ও পুষ্টির চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই সময়ে মাছ ধরা বন্ধ থাকলে ভবিষ্যতে ইলিশের উৎপাদন বাড়বে এবং জেলেরা আরও বেশি মাছ ধরতে পারবেন।
আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রোকনুজ্জামান খান বলেন, আইন বাস্তবায়নে উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ, পুলিশ ও কোস্টগার্ড যৌথভাবে কাজ করবে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোকেও এই কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। নদী ও হাটবাজারে নিয়মিত টহল দেওয়া হবে এবং আইন প্রয়োগে কঠোর নজরদারি রাখা হবে।
নিষেধাজ্ঞার সময়ে জেলেদের বিকল্প কর্মসংস্থানের জন্য সরকারি সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, মা ইলিশ রক্ষার গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে স্থানীয়ভাবে প্রচারণাও চালানো হবে, যার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সমৃদ্ধ মৎস্য ভান্ডার গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
সার্বিকভাবে, ইলিশের স্থায়িত্ব রক্ষা এবং দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি বজায় রাখতে এই নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে সকলের সহযোগিতা কামনা করেছে আমতলী উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগ।