


দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টানা বৃষ্টিপাতের ফলে জনজীবনে নেমে এসেছে ভোগান্তি, আর কয়েকটি জেলায় তৈরি হয়েছে বন্যা পরিস্থিতি। রাজধানীসহ দেশের বহু এলাকায় বুধবার দিনভর বৃষ্টি হয়েছে, যা রাতেও অব্যাহত ছিল। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আজ বৃহস্পতিবারও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি হতে পারে এবং বিশেষ করে বিকেলের দিকে রাজধানী ও দক্ষিণাঞ্চলে বৃষ্টির প্রবণতা বাড়তে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে খেপুপাড়া-তে, যেখানে ১২১ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে—যা অতি ভারী বৃষ্টির পর্যায়ে পড়ে। রাজধানী ঢাকা-তেও উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত হয়েছে, মোট ৬৫ মিলিমিটার, যার বড় অংশই হয়েছে রাতের দিকে।
আজ সকালে ঢাকায় বৃষ্টি না হলেও আকাশ মেঘাচ্ছন্ন রয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. তরিফুল নেওয়াজ কবীর জানিয়েছেন, দুপুরের পর থেকে বৃষ্টির প্রবণতা বাড়তে পারে, বিশেষ করে দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে। একই সঙ্গে রাজধানীতেও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
এর আগে আবহাওয়া অধিদপ্তর ৯৬ ঘণ্টার পূর্বাভাসে দেশের বিভিন্ন স্থানে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির কথা জানিয়েছিল। সেই পূর্বাভাস অনুযায়ী মঙ্গলবার বিকেল থেকেই বৃষ্টি শুরু হয় এবং তা ক্রমেই তীব্র আকার ধারণ করে।
প্রবল বৃষ্টিপাতে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় ইতোমধ্যে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। কংস নদী, সোমেশ্বরী নদী এবং মনু নদী-এর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে নেত্রকোনা, মৌলভীবাজার, সিলেট, হবিগঞ্জ এবং সুনামগঞ্জ জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে পড়েছে।
আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, আজ দুপুরের পর নতুন পূর্বাভাস প্রকাশ করা হবে। তবে সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বলা হচ্ছে, একটানা না হলেও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিচ্ছিন্নভাবে আগামী সোমবার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞরা নদী তীরবর্তী ও নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি অপ্রয়োজনে বাইরে না যাওয়া এবং সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।