


ফেনী প্রতিনিধি:
ফেনীতে ‘বাংলাদেশের সংকট মোকাবিলায় আমাদের করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভা, ঈদ পুনর্মিলনী ও কর্মী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সকাল ১০টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে ফেনী জেলা হেযবুত তওহীদের উদ্যোগে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন। সভাপতিত্ব করেন ফেনী জেলা হেযবুত তওহীদের সভাপতি আব্দুল ওয়াহেদ মামুন।
প্রধান অতিথি নিজাম উদ্দিন তার বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশকে নিয়ে বর্তমানে গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। আন্তর্জাতিক মহলে পরিকল্পিতভাবে এই দেশকে একটি উগ্রবাদী ও দুর্নীতিগ্রস্ত রাষ্ট্র হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। সাম্রাজ্যবাদীরা এই ভূখণ্ড দখলের পরিকল্পনা করছে। অথচ দেশের ভেতরে মানুষ বিভিন্ন দল ও মতে বিভক্ত হয়ে রয়েছে। যারা বিভিন্ন মুসলিম দেশ আক্রমণ করে দখল করছে, তারা হামলার সময় কোনো ভেদাভেদ করবে না বলে তিনি উল্লেখ করেন।
দেশের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, বর্তমানে আমাদের শিক্ষা, অর্থনীতি, চিকিৎসা ও রাজনৈতিক ব্যবস্থা সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই অবস্থার জন্য তিনি ব্রিটিশদের তৈরি সুদভিত্তিক অর্থনীতি, বিচার ব্যবস্থা ও গতানুগতিক সিস্টেম অনুসরণ করাকে দায়ী করেন। তার মতে, স্বাধীনতার পর থেকে এই ব্যবস্থাগুলো অনুসরণ করার কারণেই জাতি আজ সংকটে পড়েছে। আল্লাহর দেওয়া বিধান এবং সঠিক পথ অনুসরণ করলে এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব বলে তিনি দাবি করেন। তিনি মনে করেন, মানুষের তৈরি ব্যবস্থা নয়, বরং স্রষ্টার দেওয়া বিধানই যাবতীয় অন্যায় ও অশান্তি থেকে মুক্তির একমাত্র পথ।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় আমির মাহাবুর আলম, কেন্দ্রীয় গণমাধ্যম ও যোগাযোগ সম্পাদক শারমিন সুলতানা, ফেনী জেলা সাধারণ সম্পাদক নূরুল আলম, ফেনী সদর থানা সভাপতি একরামুল হক ভূঁইয়া, ফুলগাজী থানা সভাপতি মঞ্জুরুল আলম এবং ছাগলনাইয়া থানা সভাপতি ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন আজমাইন ফেরদৌস ও আনিসা বিনতে আফসারের সঞ্চালনায়
অনুষ্ঠানে অন্যান্য বক্তারা বলেন, উগ্রবাদ ও ধর্মের অপব্যাখ্যা রুখতে এবং দেশের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হেযবুত তওহীদের কর্মীরা নিয়মিত কাজ করছেন। তারা সব ধরণের সংকীর্ণতা ও ভেদাভেদ ভুলে দেশের কল্যাণে এবং মানবতার সেবায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চলা এই ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে ফেনী জেলার কয়েক শতাধিক নেতা-কর্মী অংশ নেন।