Date: April 27, 2026

দৈনিক দেশেরপত্র

collapse
...
Home / জাতীয় / পঞ্চাশ বছর পর একই স্থানে বাবা-ছেলের নামফলক, উলশী খালে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি - দৈনিক দেশেরপত্র - মানবতার কল্যাণে সত্যের প্...

পঞ্চাশ বছর পর একই স্থানে বাবা-ছেলের নামফলক, উলশী খালে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি

April 27, 2026 03:43:55 PM   দেশেরপত্র ডেস্ক
পঞ্চাশ বছর পর একই স্থানে বাবা-ছেলের নামফলক, উলশী খালে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি

যশোরের শার্শার উলশী-যদুনাথপুর খাল-একটি খাল, দুই প্রজন্মের ইতিহাস। পঞ্চাশ বছর আগে যে খাল খনন কর্মসূচির সূচনা করেছিলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, ঠিক সেই স্থানেই এবার পুনঃখননের উদ্বোধন করলেন তার ছেলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ফলে খালপাড়ে এখন পাশাপাশি শোভা পাচ্ছে বাবা ও ছেলের নামফলক-যা নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) দুপুর ১২টার দিকে কোদাল দিয়ে মাটি কেটে আনুষ্ঠানিকভাবে খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের সূচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। এর মাধ্যমে তিনি দেশের বিভিন্ন স্থানে চলমান খাল খনন কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই প্রকল্পে যুক্ত হন। উদ্বোধনের পর খালপাড়ে আয়োজিত সুধী সমাবেশেও অংশগ্রহণ করেন তিনি।

উদ্বোধনের আগে খালপাড়ে একটি নতুন নামফলক উন্মোচন করা হয়। এতে উল্লেখ করা হয়েছে-যশোর জেলার শার্শা উপজেলাধীন উলশী খাল (জিয়া খাল) পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, তারিখ ২৭ এপ্রিল ২০২৬। নতুন এই ফলকের পাশেই এখনো অক্ষত রয়েছে ১৯৭৬ সালের সেই ঐতিহাসিক ফলক।

ইতিহাস বলছে, ১৯৭৬ সালের ১ নভেম্বর শার্শার উলশী থেকে যদুনাথপুর পর্যন্ত প্রায় ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এই খাল স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে খননের উদ্যোগ নেন জিয়াউর রহমান। সে সময় তিনি ছিলেন সেনাপ্রধান ও উপপ্রধান সামরিক আইন প্রশাসক। ‘জিয়া খাল’ নামে পরিচিত এই প্রকল্পটি ছিল দেশব্যাপী গণউপযোগী উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের একটি প্রতীকী সূচনা।

পুরোনো ফলকে লেখা রয়েছে—উলশী-যদুনাথপুর বেতনা নদীর সংযোগ প্রকল্প, যা সামাজিক আন্দোলনের প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে স্বেচ্ছাশ্রমে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সেই ঐতিহাসিক উদ্যোগই আজ নতুন করে পুনর্জীবন পাচ্ছে আধুনিক পরিকল্পনার মাধ্যমে।

বর্তমানে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধানে খালটি পুনঃখনন করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন অবহেলায় ভরাট হয়ে যাওয়া এই খাল পুনরুদ্ধার হলে এলাকার পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নত হবে, জলাবদ্ধতা কমবে এবং কৃষি উৎপাদনে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

একই স্থানে পঞ্চাশ বছর ব্যবধানে বাবা ও ছেলের নামফলক স্থাপনের এই বিরল ঘটনাটি শুধু একটি উন্নয়ন প্রকল্প নয়, বরং একটি ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতার প্রতীক হিসেবেও দেখা হচ্ছে।