Date: March 04, 2026

দৈনিক দেশেরপত্র

collapse
...
Home / লাইফস্টাইল / ধূমপানের চেয়েও বিপজ্জনক ভেপিং, বাড়ায় মারাত্মক রোগের ঝুঁকি - দৈনিক দেশেরপত্র - মানবতার কল্যাণে সত্যের প্রকাশ

ধূমপানের চেয়েও বিপজ্জনক ভেপিং, বাড়ায় মারাত্মক রোগের ঝুঁকি

July 09, 2025 12:26:59 PM   অনলাইন ডেস্ক
ধূমপানের চেয়েও বিপজ্জনক ভেপিং, বাড়ায় মারাত্মক রোগের ঝুঁকি

সম্প্রতি একটি নতুন গবেষণা চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এনেছে, যেখানে দাবি করা হয়েছে যে ভেপিং বা ই-সিগারেট ধূমপানের চেয়েও বেশি বিপজ্জনক হতে পারে। ফক্স নিউজের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই অভ্যাসটি তিনটি মারাত্মক রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে: ডিমেনশিয়া (স্মৃতিভ্রংশ), হৃদরোগ এবং অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিকল (Organ Failure)।

ফক্স নিউজের মেডিকেল টিমের সদস্য ডঃ মাইক সিরিগ্লিয়ানো এই গবেষণার বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন।

গবেষণার মূল বিষয়:
ফক্স নিউজের অ্যাঙ্করের প্রশ্নের উত্তরে ডঃ মাইক জানান, ইংল্যান্ডে এই গবেষণাটি করা হয়েছে, যদিও এটি এখনও পুরোপুরি প্রকাশিত হয়নি। গবেষণায় মোট ৬০ জনকে তিনটি দলে ভাগ করা হয়েছিল:
২০ জন যারা নিয়মিত ধূমপান করেন।
২০ জন যারা নিয়মিত ভেপিং করেন।
২০ জন যারা ধূমপান বা ভেপিং কিছুই করেন না।

প্রাথমিকভাবে দেখা গেছে, যারা ভেপিং করেন তাদের ধমনীতে সমস্যা এবং ডিমেনশিয়ার মতো রোগের ঝুঁকি বেশি।

কেন ভেপিং বেশি বিপজ্জনক?
ডঃ মাইক বলেন, যেকোনো ধরনের ধোঁয়া বা রাসায়নিক ফুসফুসে প্রবেশ করানোই ক্ষতিকর। তিনি বিষয়গুলো এভাবে ব্যাখ্যা করেন:
১. ধূমপানের ক্ষতি: সাধারণ সিগারেটে প্রায় ৪,০০০ কার্সিনোজেন (ক্যান্সার সৃষ্টিকারী উপাদান) থাকে, যা হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বহুগুণে বাড়িয়ে দেয়। তাই ধূমপান যে মারাত্মক ক্ষতিকর, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।
২. ভেপিং-এর ঝুঁকি: যদিও ভেপিংকে অনেকে ধূমপান ছাড়ার একটি উপায় হিসেবে দেখেন, ডঃ মাইকের মতে এটি সম্পূর্ণ নিরাপদ নয়। তিনি বলেন, "আমরা এখনও জানি না যে ১০, ২০ বা ৩০ বছর ধরে ভেপিং করলে শরীরে এর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব কী হবে।" ফুসফুসে যেকোনো ধরনের বহিরাগত রাসায়নিক প্রবেশ করানো মানেই প্রকৃতির বিরুদ্ধে যাওয়া, যা ভবিষ্যতে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
৩. তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ঝুঁকি: সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, বহু তরুণ-তরুণী এবং এমনকি গর্ভবতী নারীরাও ভেপিং-এর প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছেন, যারা আগে ধূমপান করতেন না। এটি একটি নতুন আসক্তি তৈরি করছে যার ভবিষ্যৎ পরিণতি অজানা।

বিশেষজ্ঞের পরামর্শ:
ডঃ মাইক পরামর্শ দেন যে, ধূমপান ছাড়ার জন্য প্রথমে নিকোটিন গাম বা প্যাচের মতো বিকল্প চেষ্টা করা উচিত। যদি তাতেও কাজ না হয়, তবে চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ গ্রহণ করা যেতে পারে। ভেপিংকে কেবল শেষ বিকল্প হিসেবে ভাবা যেতে পারে, কিন্তু একে কোনোভাবেই নিরাপদ অভ্যাস হিসেবে দেখা উচিত নয়।

তিনি তার ব্যক্তিগত মতামত জানিয়ে বলেন, "আমি আমার ফুসফুসে কোনো কিছুই প্রবেশ করাতে চাই না। আমি সুস্থভাবে শ্বাস নিতে এবং জীবন উপভোগ করতে চাই।"

সুতরাং, এই নতুন গবেষণাটি আমাদের সতর্ক করে দিচ্ছে যে, ভেপিংকে ধূমপানের নিরাপদ বিকল্প হিসেবে ভাবার কোনো কারণ নেই। বরং এটিও শরীরের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি বহন করতে পারে।