Date: May 18, 2026

দৈনিক দেশেরপত্র

collapse
...
Home / আইন আদালত / তনু হত্যা মামলার তদন্তে নতুন মোড়! - দৈনিক দেশেরপত্র - মানবতার কল্যাণে সত্যের প্রকাশ

তনু হত্যা মামলার তদন্তে নতুন মোড়!

May 18, 2026 01:25:39 PM   অনলাইন ডেস্ক
তনু হত্যা মামলার তদন্তে নতুন মোড়!

দীর্ঘ ১০ বছরেও আলোচিত সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলার রহস্য উন্মোচিত হয়নি। তবে তদন্তে এবার নতুন মোড় এসেছে। তনুর পোশাক থেকে সংগ্রহ করা নমুনার ডিএনএ পরীক্ষায় আরও একজনের রক্তের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

রোববার (১৭ মে) রাতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পিবিআই ঢাকার পরিদর্শক তারিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, তনুর পোশাকে আগে তিনজন পুরুষের শুক্রাণুর নমুনা পাওয়া গিয়েছিল। এবার একই আলামতের ডিএনএ বিশ্লেষণে আরও একজন অজ্ঞাত ব্যক্তির রক্তের নমুনা শনাক্ত হয়েছে। ফলে মামলায় সন্দেহভাজনের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে চারজনে।

তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, “তিনজনের শুক্রাণুর পাশাপাশি আরেকজনের রক্তের নমুনা পাওয়া গেছে। এতে তনুর পোশাকে মোট চারজনের ডিএনএ উপস্থিতির তথ্য মিলেছে। এটি তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।”

পিবিআই সূত্র জানায়, কয়েক মাস আগে সিআইডির কাছে ডিএনএ বিশ্লেষণের বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়। পরে পাঠানো প্রতিবেদনে তিনজন পুরুষের শুক্রাণুর পাশাপাশি আরেকজনের রক্তের নমুনা থাকার তথ্য উল্লেখ করা হয়।

সিআইডির ডিএনএ ল্যাবের পরীক্ষক নুসরাত ইয়াসমিনের প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলার তদন্তে পাঠানো ২৪টি আলামতের মধ্যে কয়েকটিতে তিনজন ভিন্ন পুরুষের পূর্ণাঙ্গ ডিএনএ প্রোফাইল পাওয়া যায়। এছাড়া একটি কাপড়ে শনাক্ত হয় আরেক অজ্ঞাত ব্যক্তির রক্তের নমুনা, যার ডিএনএ অন্য নমুনাগুলোর সঙ্গে মেলেনি।

এদিকে চলতি বছরের ৬ এপ্রিল মামলার তিন সন্দেহভাজন— অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট জাহিদ, ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমান ও সৈনিক শাহিনুল আলমের ডিএনএ মিলিয়ে দেখতে আদালতে আবেদন করে পিবিআই। আদালতের নির্দেশে ২১ এপ্রিল হাফিজুর রহমানকে আটক করা হয় এবং তার ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে পরীক্ষার ফল এখনো হাতে পায়নি তদন্ত সংস্থা।

তদন্ত কর্মকর্তা আরও জানান, নতুন রক্তের নমুনা পাওয়ায় এখন সন্দেহভাজনদের সঙ্গে আরও তিনজনের ডিএনএ মিলিয়ে দেখার প্রক্রিয়া শুরু হবে।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় টিউশনি করতে গিয়ে নিখোঁজ হন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের ছাত্রী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু। পরে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউস এলাকার ঝোপ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরদিন তনুর বাবা ইয়ার হোসেন অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা ও ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন।